পঞ্চগড় সংবাদদাতা।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজনৈতিক সম্প্রীতির এক বিরল ছবি দেখা গেল উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে। তালাবদ্ধ একটি আওয়ামী লীগ কার্যালয় নিজ উদ্যোগে খুলে দিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির এক শীর্ষ নেতা। শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধানের এই পদক্ষেপের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এই কার্যালয়টি বেশ কিছুদিন ধরে তালাবদ্ধ ছিল। বিএনপি নেতা আবু দাউদ প্রধানের দাবি, জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা এটি আটকে রেখেছিলেন। খবর পেয়ে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে তালা খুলে দেন এবং ভেতরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করেন।
আবু দাউদ প্রধান বলেন, “এলাকায় উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যই আমি এই উদ্যোগ নিয়েছি। দীর্ঘ ১৮ বছর পর আমাদের বিজয় হয়েছে। আমি চাই না কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় এলাকার শান্তি বিঘ্নিত হোক।”
আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি নেতা অভয় দিয়ে বলেন, কোনো প্রকার অন্যায় না করলে তাঁদের গায়ের ওপর কেউ আঁচড় দিতে পারবে না। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনো অন্যায়কারীকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা ও মুক্তিযোদ্ধারা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেট বিষয়টিকে ‘তালামুক্ত করে অবমুক্ত করা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন জানিয়েছেন, অফিসটি খুলে দেওয়া হলেও আপাতত সেখান থেকে আওয়ামী লীগের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম চলবে না; বরং এটি সাময়িকভাবে মুক্তিযোদ্ধারা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে, গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক তিক্ততার পর বিএনপির এই নেতার ‘উদারতা’ নিয়ে জনমনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর কেউ কেউ একে সম্প্রীতির নতুন উদাহরণ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ একে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও মন্তব্য করছেন।
ভোটে বিশাল জয়ের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বিজয় মিছিল থেকে বিরত থাকার কথা থাকলেও, তৃণমূল পর্যায়ে এমন সম্প্রীতি স্থাপনের ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ।