মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের রাজঘাটা এলাকার খরস্রোতা টঙ্গাবতী খাল দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও দখল-দূষণের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খালটি জন্মলগ্ন থেকে কখনো পূর্ণাঙ্গভাবে খনন করা হয়নি। ফলে বর্ষা মৌসুমে তীব্র স্রোত এক পাড় ভেঙে অন্য পাড়ে চর সৃষ্টি করছে, আর শুকনো মৌসুমে কোথাও গভীর খাদ, কোথাও বালুচরে রূপ নিচ্ছে খালের তলদেশ।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, রাজঘাটার বলির বাড়িসহ আশপাশের বহু পরিবারের ভিটেমাটি ইতোমধ্যে খালে বিলীন হয়েছে। নদীভাঙনের ধারাবাহিকতায় জনপদে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন এবং বালু খেকোদের দৌরাত্ম্যে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও গভীর গর্ত, কোথাও আবার চর জেগে ওঠায় সেচব্যবস্থা ও নৌচলাচল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, টঙ্গাবতী খাল একসময় ছিল এলাকার কৃষি সেচের প্রধান উৎস। বর্তমানে ময়লা-আবর্জনার ডাস্টবিনে পরিণত হওয়ায় পানি দূষিত হচ্ছে এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পরিবেশ রক্ষা ও সেচ উন্নয়নের স্বার্থে খালের তীরবর্তী অবৈধ ময়লার ভাগাড় দ্রুত উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত খাল খনন কর্মসূচির আওতায় আমিরাবাদ রাজঘাটা টঙ্গাবতী খালকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ পুনঃখনন ও সংস্কারের দাবি উঠেছে। এলাকাবাসীর মতে, খালটি আগের স্বাভাবিক প্রবাহে ফিরিয়ে আনতে পারলে নদীভাঙন রোধ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন—টঙ্গাবতী খালের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ ও বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারের খাল পুনরুদ্ধার কর্মসূচির আলোকে পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
একই সঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের আশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে টঙ্গাবতী খাল আবারও ফিরে পাবে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও প্রাণচাঞ্চল্য।