মোঃ কামরুল ইসলাম, রাঙ্গামাটিজেলা প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার ৯ নং ওয়ার্ডের উত্তর বিহারপুর (১০২ নং রাঙ্গামাটি মৌজা) এলাকায় যাতায়াতের চরম অব্যবস্থাপনা এবং কর্মসংস্থানের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাহাড় ও ছড়া বেষ্টিত এই এলাকায় যাতায়াতের জন্য একটি ব্রিজের অভাবে ইতিপূর্বে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২ জন।মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে পারাপার।
স্থানীয় কার্বারি মালিকা চাকমা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার মানুষ পারাপারের জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। কোনো রকমে একজন একজন করে ঝুঁকি নিয়ে ছড়া পার হতে হয়। বর্ষাকালে এই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পারাপার হতে গিয়ে এরই মধ্যে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুইজন মৃত্যুবরণ করেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, এখানে জরুরি ভিত্তিতে একটি স্থায়ী ব্রিজ, পাকা রাস্তা, সিঁড়ি এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা না হলে যেকোনো সময় আবারও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
এলাকার অবকাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি তীব্র হয়ে দাঁড়িয়েছে বেকারত্ব। বিশেষ করে উত্তর বিহারপুরের মহিলারা ঘরে বসে বেকার সময় পার করছেন। মালিকা চাকমা বলেন,পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে নারীদের আয় করা প্রয়োজন। আমাদের এলাকায় যদি একটি কুটির শিল্প বা সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়, তবে এখানকার নারীরা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন।মাননীয় মন্ত্রীর প্রতি আকুল আবেদন এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে স্থানীয় বাসিন্দারা নবনিযুক্ত পূর্ণ মন্ত্রী এডভোকেট দিপেন দেওয়ান মহোদয়ের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, মন্ত্রী মহোদয় সরাসরি হস্তক্ষেপ করলে এই অবহেলিত জনপদ দ্রুত উন্নয়নের ছোঁয়া পাবে। এছাড়া এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং তারেক জিয়া সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে এই মানবিক সংকট নিরসনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
দাবিসমূহ একনজরে,নিরাপদ পারাপারের জন্য একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ।এলাকার অভ্যন্তরীণ রাস্তা ও সিঁড়ি সংস্কার।পাহাড়ি ঢল ও পানি নিষ্কাশনের জন্য উন্নত ড্রেন ব্যবস্থা।মহিলাদের কর্মসংস্থানের জন্য একটি কুটির শিল্প বা হস্তশিল্প কেন্দ্র স্থাপন।
উত্তর বিহারপুরবাসীর প্রত্যাশা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন দ্রুত এই দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।