মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের টঙ্গাবতী খালের তীরবর্তী এলাকায় বর্ষা মানেই ছিল আতঙ্কের আরেক নাম। খরস্রোতা টঙ্গাবতী খালের ভাঙনে হুমকির মুখে ছিল অন্তত ২০টি পরিবার। বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় প্রতিটি বর্ষা কাটতো অনিশ্চয়তায়। সেই দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসেন স্থানীয় ইউপি সদস্য (প্যানেল চেয়ারম্যান) বশিরুল আলম শরিফ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় তদবিরের মাধ্যমে তিনি ৩০ লক্ষ টাকার বরাদ্দ নিশ্চিত করেন। ওই অর্থে টঙ্গাবতী খালে রবারড্যাম নির্মাণসহ নদীভাঙন প্রতিরোধমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। এর ফলে ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি ও জানমাল রক্ষা পেয়েছে। এলাকাবাসী বলছেন, এটি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়—এটি তাদের টিকে থাকার নিরাপত্তা বলয়।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষাকালে খাল ফুলে-ফেঁপে উঠলেই ভাঙনের ভয় তীব্র হয়ে উঠত। রাতভর জেগে থাকতে হতো, কখন মাটি সরে যায় সেই আশঙ্কায়। রবারড্যাম নির্মাণের পর পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। এখন মানুষ অন্তত নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছেন।
বশিরুল আলম শরিফ শুধু একটি প্রকল্পেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতার পরিচয় দিয়ে ধারাবাহিকভাবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থেকেছেন। তিনি বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার কল্যাণ এসোসিয়েশন-এর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করে ২০২৩ অর্থবছর থেকে চলতি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লক্ষ টাকার উন্নয়ন বরাদ্দ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন। এসব বরাদ্দের মাধ্যমে বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্প আজ এলাকায় দৃশ্যমান ও জনসাধারণের উপকারে আসছে। ইউনিয়ন পরিষদের নিয়মিত বরাদ্দের বাইরে থেকেও তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে অতিরিক্ত বরাদ্দ সংগ্রহ করে তা এলাকার অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করেছেন—যা তাঁর নিষ্ঠা ও দায়বদ্ধতার স্পষ্ট প্রমাণ।
তিনি বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির মূল দায়িত্ব শুধু বরাদ্দের অপেক্ষায় থাকা নয়, বরং এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা সংগ্রহ করে জনগণের কল্যাণে তা কাজে লাগানো। আমার সামর্থ্য ও যোগাযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে আমি উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই। জনগণের আস্থা ও সহযোগিতাই আমার সবচেয়ে বড় প্রেরণা।
তার উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে টঙ্গাবতী খালের নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প, নাথপাড়া রাস্তা নির্মাণ, মুন্সির বটতল থেকে মৌলানা পুকুরপাড় পর্যন্ত সড়কে ব্রিক সলিং, হাজারী গোদারপাড়া সড়ক সংস্কার, রসুলাবাদ পাড়ায় কালভার্ট নির্মাণ, আমির হামজা সড়কে গার্ডওয়াল নির্মাণ, তহশিলদার পাড়া রাস্তা ব্রিক সলিং, মিয়াজান বাড়ি কবরস্থান সড়ক উন্নয়ন এবং তরুণী সেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়ক সংস্কারসহ আরও বহু উন্নয়নমূলক উদ্যোগ।
এসব উন্নয়নকাজে সাধারণ মানুষের চলাচল সহজ হয়েছে, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত নিরাপদ হয়েছে এবং বর্ষাকালের দুর্ভোগ কমেছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, তিনি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি নন—তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ সেবক। মাঠে উপস্থিত থেকে সমস্যা চিহ্নিত করা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং কাজের অগ্রগতি তদারকি—সব মিলিয়ে তার কার্যক্রম তাকে জনবান্ধব প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বিশেষ করে টঙ্গাবতী খালের তীরবর্তী ২০ পরিবারের ঘরবাড়ি রক্ষায় তার অবদান এলাকাবাসীর হৃদয়ে স্থায়ী কৃতজ্ঞতার স্থান করে নিয়েছে। উন্নয়নের এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা প্রমাণ করে, আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ থাকলে একজন ইউপি সদস্যও একটি এলাকার জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারেন।