মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
লোহাগাড়ার এক সম্ভাবনাময় তরুণী জান্নাতুল মাওয়া দিনা—যার প্রাণচঞ্চল উপস্থিতি পরিবার ও সহপাঠীদের মাঝে এনে দিত প্রাণের উচ্ছ্বাস। মাত্র ২১ বছরের এই মেধাবী ছাত্রী ছিলেন চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থতা তার জীবনের গতি থামিয়ে দেয় চিরতরে।
প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হলেও অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ২৬ মার্চ বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া, স্তব্ধ হয়ে যায় এক স্বপ্নময় ভবিষ্যৎ।
মৃত্যুর আগে বাবার কাছে তার একটি ছোট্ট আবদার ছিল—একটি মোবাইল ফোন। আদরের মেয়ের সেই ইচ্ছা পূরণ করতে বাবা ডা. মোহাম্মদ কামাল উদ্দীন তাকে নিয়ে যান লোহাগাড়া ওয়ালটন প্লাজায়। মেয়ের পছন্দের একটি মোবাইল সেট কিনে দেন, যার কিছু মূল্য নগদে পরিশোধ করে বাকি অংশ কিস্তিতে দেওয়ার চুক্তি করেন। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সেই ফোন হয়ে যায় স্মৃতির প্রতীক।
এমন কঠিন সময়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে Walton প্লাজার লোহাগাড়া শাখা। প্রতিষ্ঠানটির “কিস্তি ক্রেতা সুরক্ষা নীতি”-এর আওতায় জানানো হয়—মৃত্যুর পর আর কোনো কিস্তি পরিশোধ করতে হবে না, বরং পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে আর্থিক সহায়তা।
এই নীতির আওতায় ২৫ হাজার থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহায়তা প্রদান এবং বকেয়া কিস্তি মওকুফের সুযোগ রয়েছে, যা ইতোমধ্যে লক্ষাধিক গ্রাহকের জন্য কার্যকর হয়েছে। বিশ্বের প্রথম এমন কিস্তি সুরক্ষা সুবিধা হিসেবে এটি ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সহায়তার অর্থ হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে ডা. কামাল উদ্দীন বলেন,“আলহামদুলিল্লাহ! বিপদের দিনে লোহাগাড়া ওয়ালটন প্লাজা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমি জানতাম না কিস্তিতে পণ্য কিনে এমন সুবিধাও পাওয়া যায়। আজ তারা কথা রেখেছে, আমাদের দুঃসময়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি সত্যিই অভিভূত।”
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারসহ সকল কর্মকর্তার আন্তরিকতা তাকে মুগ্ধ করেছে এবং তাদের এই মানবিক উদ্যোগের জন্য তিনি ও তার পরিবার গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।
একটি অকাল মৃত্যু যেমন একটি পরিবারকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে দেয়, তেমনি এমন মানবিক উদ্যোগ কিছুটা হলেও সেই দুঃখের ভার লাঘব করে। জান্নাতুল মাওয়া দিনার অসমাপ্ত স্বপ্ন আজ স্মৃতির পাতায় রয়ে গেলেও, তার পরিবার পেয়েছে সহমর্মিতার এক অনন্য উদাহরণ—যা নিঃসন্দেহে সমাজে মানবিকতার আলো জ্বালিয়ে রাখবে।