নিউজ ডেস্ক।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
NASA বহুল প্রতীক্ষিত Artemis II মিশন সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে, যা অ্যাপোলো যুগের পর প্রথম মানববাহী চন্দ্র অভিযানের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় সময় বুধবার ফ্লোরিডার Kennedy Space Center থেকে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়।
এই মিশনের মাধ্যমে প্রায় ৫৩ বছর পর মানুষ আবার চাঁদের কক্ষপথের বাইরে যাওয়ার যাত্রা শুরু করল। প্রায় ১০ দিনের এই অভিযানে মহাকাশচারীরা চাঁদের চারপাশে ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
এই ঐতিহাসিক অভিযানে অংশ নিয়েছেন চার মহাকাশচারী— Reid Wiseman, Victor Glover, Christina Koch এবং Jeremy Hansen। উৎক্ষেপণের সময় হাজার হাজার মানুষ সরাসরি এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন। উৎক্ষেপণের কয়েক মিনিট পরই কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান চাঁদের দৃশ্য দেখতে পাওয়ার কথা জানান বলে জানিয়েছে Al Jazeera।
নাসার দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এই মিশন, যার লক্ষ্য ভবিষ্যতে আবার মানুষকে চাঁদে অবতরণ করানো এবং পরবর্তীতে মঙ্গল গ্রহে মানব মিশন পাঠানো। উৎক্ষেপণের আগে কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ দেখা দিলেও সেগুলো সফলভাবে সমাধান করা হয়। বিশেষ করে জ্বালানি ভরার সময় হাইড্রোজেন লিকের আশঙ্কা থাকলেও বড় ধরনের কোনো সমস্যা দেখা যায়নি।
মিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম এক থেকে দুই দিন মহাকাশচারীরা পৃথিবীর উচ্চ কক্ষপথে থেকে মহাকাশযানের বিভিন্ন সিস্টেম পরীক্ষা করবেন। এরপর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঞ্জিন বার্নের মাধ্যমে মহাকাশযানকে চাঁদের দিকে পাঠানো হবে।
চাঁদের পেছন দিয়ে একটি ‘ফ্রি-রিটার্ন ট্রাজেক্টরি’ অনুসরণ করে মহাকাশযানটি আবার পৃথিবীর দিকে ফিরে আসবে। এ সময় মহাকাশচারীরা পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরত্বে পৌঁছাবেন। শেষ পর্যায়ে ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটার বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ক্যাপসুলটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে, সেখান থেকে উদ্ধারকারী দল তাদের ফিরিয়ে আনবে।
অ্যাপোলো মিশনের পর এই প্রথম এমন মানববাহী চন্দ্র অভিযান পরিচালনা করছে নাসা, যা নতুন প্রজন্মের মহাকাশ অনুসন্ধানের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।