মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় এক অদম্য নারী কৃষক নিজ উদ্যোগে বোরো মৌসুমে সাত কানি জমিতে ধান চাষ করে এলাকায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। পুরুষদের পাশাপাশি মাঠে নেমে তার এমন সাহসী অংশগ্রহণ ইতোমধ্যেই স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। যেখানে লোহাগাড়ায় নারীদের কৃষিকাজে সরাসরি অংশগ্রহণ খুব একটা দেখা যায় না, সেখানে তার এই সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে নিয়মিতভাবে চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ছবি রানী বড়ুয়া শুধু নিজের অবস্থানই দৃঢ় করেননি, বরং এলাকার অন্যান্য নারীদের জন্যও হয়ে উঠেছেন এক অনুপ্রেরণার প্রতীক।
জানা গেছে, কৃষিকাজে সফলতা নিশ্চিত করতে ছবি রানী বড়ুয়া শুরু থেকেই পরিকল্পিতভাবে এগিয়েছেন। জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ করেন। সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে পানি পাম্প পরিচালনার জন্য সরকারি বিধি অনুসারে অকটেন সংগ্রহে অনুমতিপত্রও গ্রহণ করেন, যা তার দায়িত্বশীলতা ও সচেতনতার প্রমাণ বহন করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নানা প্রতিকূলতা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে তার এ উদ্যোগ এখন অন্য নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই তার পথ অনুসরণ করে কৃষিকাজে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তা কাজী শফিউল ইসলাম বলেন, “কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে কৃষি বিভাগ সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। নারীরা কৃষিতে এগিয়ে এলে শুধু উৎপাদনই বাড়বে না, বরং পারিবারিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।” তিনি নারী কৃষক ছবি রানী বড়ুয়ার এমন সাহসী উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নারী ক্ষমতায়নের বাস্তব উদাহরণ হিসেবে কাজ করছে। লোহাগাড়ার এই নারী কৃষকের সাফল্যের গল্প প্রমাণ করে—সুযোগ ও সাহস থাকলে নারীরাও কৃষিতে সমানভাবে অবদান রাখতে সক্ষম।