মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় অবস্থিত মোস্তফা বেগম গার্লস হাই স্কুলে এক আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়, বাংলা নববর্ষ বরণ এবং দোয়া মাহফিল। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান আনন্দ, আবেগ, মেধার স্বীকৃতি ও প্রত্যাশার এক অনন্য সম্মিলনে পরিণত হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইসমত জেরিন সোলতানা ও বারেক হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ হাসান এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ হাসান বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত পরিচয় কেবল পাঠ্যবইয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়েই একটি আদর্শ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে ওঠে। তিনি উল্লেখ করেন, মোস্তফা বেগম গার্লস হাই স্কুল সেই আদর্শেই এগিয়ে যাচ্ছে এবং এখানকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়ের সুনাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিদায় কোনো সমাপ্তি নয়, বরং এটি নতুন পথচলার সূচনা, আর আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমাজ ও দেশের নেতৃত্ব দেবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনের মূল ভিত্তি। তিনি মোস্তফা বেগম গার্লস হাই স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম, শৃঙ্খলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষা শুধু একটি পরীক্ষা নয়, এটি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ, যা তাদের স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কঠোর পরিশ্রম, সততা ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে তারা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আলহাজ্ব মোস্তফিজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যাপক আবু তাহের, অধ্যাপক আহমদ কবির, বার আউলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক মুহাম্মদ আলমগীর, প্রধান শিক্ষক সামশুল হক, প্রধান শিক্ষক আবু বকর, অভিভাবক সদস্য নামমুল হক, সহকারী প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আহমদ এবং সাংবাদিক মনির আহম্মদ আজাদসহ আরও অনেকে। এ সময় বিদায়ী ও অধ্যয়নরত ছাত্রীদের মধ্য থেকে জেরিন সোলতানা নিফা, তাসফিয়া আনিস ইমামা, আফরান নাজিফা, নজমুন নিসা, আফরোজা সোলতানা তানহা, আফিফা ওয়ামিন ও মারুফা হাসানসহ অনেকে আবেগঘন বক্তব্য প্রদান করেন। তাদের কথায় উঠে আসে বিদ্যালয়ের সঙ্গে কাটানো স্মৃতিময় দিনগুলোর কথা, শিক্ষকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ স্বপ্নের প্রত্যয়।
অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের উপস্থিতি মিলনায়তনকে প্রাণবন্ত করে তোলে এবং পুরো আয়োজনকে আরও অর্থবহ করে তোলে। ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণীর বার্ষিক ফলাফলের ভিত্তিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী (১ম, ২য় ও ৩য় রোলধারী) ছাত্রীদের মাঝে সম্মানজনক পুরস্কার বিতরণ করা হয়। একইসঙ্গে অষ্টম শ্রেণীতে সরকারি বৃত্তি অর্জনকারী কৃতী ছাত্রীদের মেধা ও সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ বিশেষ ক্রেস্ট প্রদান করা হয়, যা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে আরও অনুপ্রেরণা যোগাবে।
সবশেষে বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা আবু মোহাম্মদ ত্বোহা বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সফলতা কামনা করে দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন। তার মোনাজাতে শিক্ষার্থীদের জন্য কল্যাণ, সফলতা এবং নৈতিক জীবন গঠনের প্রার্থনা করা হয়।
এছাড়াও ১লা বৈশাখ উদযাপনকে ঘিরে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের অংশগ্রহণে গ্রামীণ লোকজ ঐতিহ্যের এক মনোমুগ্ধকর চিত্র ফুটে ওঠে। তারা নিজ নিজ উদ্যোগে পিঠা-পুলির স্টলে নানান রকমের ঐতিহ্যবাহী খাবারের পসরা সাজিয়ে তোলে, যা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। আমন্ত্রিত অতিথিরা স্টলগুলো ঘুরে ঘুরে হরেক রকমের পায়েস ও পিঠার স্বাদ গ্রহণ করেন এবং ছাত্রীদের এই সৃজনশীলতা ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় মুগ্ধ হন। শিক্ষার পাশাপাশি রান্নার মতো ব্যবহারিক দক্ষতায়ও তাদের পারদর্শিতা দেখে অতিথিরা ভূয়সী প্রশংসা করেন, যা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও অনুপ্রেরণাকে আরও দৃঢ় করে তোলে।
এছাড়াও ১লা বৈশাখ উদযাপনকে ঘিরে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের অংশগ্রহণে গ্রামীণ লোকজ ঐতিহ্যের এক মনোমুগ্ধকর চিত্র ফুটে ওঠে। তারা নিজ নিজ উদ্যোগে পিঠা-পুলির স্টলে নানান রকমের ঐতিহ্যবাহী খাবারের পসরা সাজিয়ে তোলে, যা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। আমন্ত্রিত অতিথিরা স্টলগুলো ঘুরে ঘুরে হরেক রকমের পায়েস ও পিঠার স্বাদ গ্রহণ করেন এবং ছাত্রীদের এই সৃজনশীলতা ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় মুগ্ধ হন। শিক্ষার পাশাপাশি রান্নার মতো ব্যবহারিক দক্ষতায়ও তাদের পারদর্শিতা দেখে অতিথিরা ভূয়সী প্রশংসা করেন, যা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও অনুপ্রেরণাকে আরও দৃঢ় করে তোলে।
এ আয়োজন যেন বিদায়ের বেদনাকে ছাপিয়ে নতুন স্বপ্ন, নতুন প্রত্যাশা এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার এক অনুপ্রেরণার বার্তা হয়ে ধরা দেয়।