প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি
শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬), রাত ৮টা ৩০ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামে দুই সন্তান নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন রেহানা খাতুন। অর্থাভাবে ঘর ভাড়া দিতে না পেরে অবশেষে খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশে সরকারি জমিতে বাঁশের কাঠামো তুলে আশ্রয়ের চেষ্টা করছেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অর্থকষ্টে থাকা রেহানা আগে একটি ভাড়া করা ঝুপড়ি ঘরে সন্তানদের নিয়ে থাকতেন। কিন্তু ঘর ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় তাকে সেই আশ্রয়স্থল ছাড়তে হয়। উপায়ান্তর না দেখে তিনি রেললাইনের পাশে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেন।
স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেখানে বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। তবে টিন ও বেড়া কেনার সামর্থ্য না থাকায় সেটি এখনো বসবাসের উপযোগী হয়নি। ফলে খোলা আকাশের নিচে প্রকৃতি নির্ভর করেই দুই সন্তানকে নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম বলেন, “রেহানার মাথায় চুল না দেখে কারণ জিজ্ঞেস করেছিলাম। তখন সে জানায়, ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া দিতে চুল বিক্রি করেছে।”
নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে রেহানা খাতুন বলেন, “সন্তানদের নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। ঘর নেই, খাবারেরও কষ্ট। বাধ্য হয়ে চুল বিক্রি করেছি। সরকার যদি একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে সন্তানদের নিয়ে একটু নিরাপদে থাকতে পারব।”
স্থানীয় প্রবীণ আবু তালেব শেখ বলেন, “পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো জরুরি। সরকারি উদ্যোগে একটি ঘর করে দিলে রেহানা ও তার সন্তানদের কষ্ট অনেকটাই কমবে।”
স্থানীয়দের দাবি, পরিবারটির আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে দ্রুত সরকারি আবাসন সুবিধার আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসতে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।