নিজস্ব প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আলফাজ আহমেদ সুজন নামে(২৫) এক যুবক পুলিশের সাড়াঁশি অভিযানের মুখে জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কাছারীব্রিজ এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর রাতে কাশিমাড়ী এলাকা থেকে উদ্ধার হয়। সে উপজেলার বাদুড়িয়া গ্রামের কামরুল ইসলাম মোড়লের ছেলে। পাওনা স্বর্ণের চেইন ও টাকার জন্য ডেকে নিয়ে ঐ যুবককে বসিয়ে রাখার দাবি করেছে ঘটনায় জড়িতরা।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সম্রাট শাহাজান ও নাজমুল হোসেনর দুই ব্যক্তি পথরোধ করে। একপর্যায়ে ব্যবহৃত মটর সাইকেলসহ তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সুজনের পরিবার জরুরী পরিষেবার নম্বরে কল দিয়ে ঘটনাটি পুলিশকে জানায়। এসময় শ্যামনগর থানার সেকেন্ড অফিসার বিপ্লব হোসেন, উপ-পরিদর্শক সুদেব মন্ডল, উপ-পরিদর্শক সনজিত মন্ডল ও সহকারী উপ-পরিদর্শক সজীব সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযানে নামে।
পুলিশ সুত্র আরও জানায় প্রযুক্তির সহায়তায় আভিযানিক দলের সদস্য রাত নয়টার দিকে কাশিমাড়ী এলাকায় সুজনের অবস্থান নিশ্চিত হয়। পরবর্তীতে রাত ১১টার দিকে স্থানীয়দের সহায়তা নিয়ে অক্ষত অবস্থায় সুজনকে উদ্দার করতে সক্ষম হয় তারা।
সুজনের ভাষ্য তার ব্যবহৃত মটরসাইকেলে চড়ে শাহাজান ও নাজমুল তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। তাকে মারধর না করলেও দিনভর তাকে মানসিক টর্চার করা হয়। পিতার নিকট পাওয়া টাকার জন্য তাকে অপহরণ করা হয়েছিল বলেও তার দাবি। সুজনের পিতা কামরুল ইসলামের দাবি মুক্তিপণের দাবিতে তার ছেলেকে অপহরন করা হয়েছিল। শাহাজান তার নিকট স্বর্ণের চেইন পাওয়ার দাবি করলেও সে সমস্যা মিমাংসিত বলেও তিনি দাবি করেন।
চেষ্টা করেও অভিযুক্ত শাহাজানের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে চাচাত ভাই বাবু জানায় ছেলে চেইন নিয়ে পালিয়েছে বলে কামরুল দাবি করেছিল। সেকারনে পথিমধ্যে সুজনকে পাওয়ার কারনে আটক করে তার পিতাকে ডাকা হয়েছিল। পুলিশের হাতে উঠিয়ে না দিয়ে নিজেদের কাছে আটকে রাখা ‘ভুল ছিল’ বলেও তিনি জানান।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান জরুরী পরিষেবায় কল পেয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব নিয়ে চৌকষ একটি দলকে মাঠে নামানোর ৬/৭ ঘন্টার মধ্যে সুজনকে উদ্ধার করা হয়। তবে ভুক্তোভোগীর পরিবার লিখিত অভিযোগ করতে সম্মত না হওয়ার কারনে উদ্ধার যুবককে পরিবারের জিম্মায় উঠিয়ে দেয়া হয়েছে।