জেলা সংবাদদাতা
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ২০২৬, সকাল ১১টা ৫ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিন (১৪) নামের এক স্কুলছাত্রীর বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল ও আশপাশের ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তির আলামত দেখে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর আগে জীবন বাঁচাতে হত্যাকারীদের হাত থেকে বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল ওই কিশোরী। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার জগতপুর গ্রামের নির্জন সড়কের পাশের ধানক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত তাজমিন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয়রা জানান, সকালে নির্জন সড়কের পাশে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা উল্টে পড়ে থাকতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। অটোরিকশার ২০-৩০ গজ দূরে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ এবং আশপাশের চার-পাঁচটি ধানক্ষেতের ধানগাছ দুমড়েমুচড়ে এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান তারা। সেই পদচিহ্ন ধরে এগোতেই কাদায় মুখ গোঁজা অবস্থায় কিশোরীর বিবস্ত্র মরদেহ পাওয়া যায়। নিহতের গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে পুলিশ এসে মরদেহ ও অটোরিকশাটি উদ্ধার করে।
নিহত তাজমিন ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রেনেটার কুমিল্লা অঞ্চলের কর্মী আব্দুল আলিমের মেয়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামে হলেও পরিবারের সঙ্গে সে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার রাতে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে যশোরের উদ্দেশে রওনা হন। পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ্ বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কিশোরীটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে দৃশ্যমান বড় কোনো জখমের চিহ্ন নেই। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও অন্য কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে জব্দকৃত নিবন্ধিত অটোরিকশাটির সূত্র ধরে অপরাধীদের শনাক্তে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।