জহুরুল হক, দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ৭টা ৩৯ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রিন্সিপালকে আটকের সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার খলিশাকুন্ডি মালিথাপাড়া এলাকার মারকাজুল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালিদুর রহমানসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন ওই এলাকার মিঠু আলীর ছেলে। স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাতে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আশিকুল্লাহ ওই ছাত্রকে বলাৎকারের চেষ্টা করেন। বিষয়টি সকালে শিক্ষার্থী তার পরিবারকে জানালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা অভিযুক্ত প্রিন্সিপালকে অবরুদ্ধ করেন।
খবর পেয়ে ওসি খালিদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ অভিযুক্তকে হেফাজতে নিতে চাইলে উত্তেজিত জনতা তাকে মারধরের চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে জনতার ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ছাত্রের বাবা মিঠু আলী বলেন, “লোকমুখে জানতে পারি প্রিন্সিপাল মাঝেমধ্যেই আমার ছেলের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করতেন। ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলে সে আমাকে সব জানায়। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল আশিকুল্লাহর বাড়ি যশোর জেলায় এবং তার শ্বশুরবাড়ি মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের আটি গ্রামে। স্থানীয়দের দাবি, প্রিন্সিপাল আশিকুল্লাহর বিরুদ্ধে এর আগেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের একাধিক অভিযোগ ছিল।
দৌলতপুর থানার ওসি খালিদুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে আসার সময় স্থানীয়রা মব করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। এতে আমি ও আমার দুই সহকর্মী আহত হই। পরে আমরা অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে আসি। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হবে।”