নিউজ ডেস্ক
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ২০২৬, রাত ৯টা ১৭ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
রাজধানীর কেরানীগঞ্জ ও মিরপুরে চাঁদাবাজির ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও প্লট মালিকরা। কেরানীগঞ্জের আরশিনগরে চাঁদা না পেয়ে একটি আবাসন কোম্পানির অফিসে হামলা ও কোটি টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। অন্যদিকে, মিরপুরের রূপনগরে ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে দফায় দফায় চাঁদা দাবির মুখে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন প্লট মালিকরা।
কেরানীগঞ্জের আরশিনগরে আফসানা হাউজিংয়ের অফিসে গত রোববার বেলা ১১টা ২৬ মিনিটে জনা তিরিশেক যুবক হামলা চালায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, লাঠিসোটা নিয়ে তারা অফিসের আসবাবপত্র, এসি ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মো. নাসির জানান, ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল, যা না দেওয়ায় এই হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় মালিক সজীব ব্যাপারী ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেছেন।
মিরপুরের রূপনগর এলাকায় প্লট মালিক মোদাচ্ছের হোসেন জানান, ভবন নির্মাণের পাইলিং শুরু করতেই বিভিন্ন গ্রুপ চাঁদা দাবি শুরু করে। পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় তিনি কাজ বন্ধ রেখেছেন। একই এলাকায় ডেফোডিল হোমস কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় তার ভবনের কাজ চারবার বন্ধ করতে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসীরা অনেক সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই কাজ বন্ধ করে দেয়।
আব্দুল মান্নান বলেন, “মামলা করেছি কিন্তু কোনো সুরাহা হচ্ছে না। থানা ও রাজনৈতিক দলের লোকজনের সহযোগিতা না থাকলে এসব চাঁদাবাজি এক মাসের মধ্যেই কমে যেত।”
গত রোববার রূপনগর আবাসিক এলাকা প্লট/ফ্ল্যাট/বাড়ি মালিক কল্যাণ সমিতি সংবাদ সম্মেলনে জানায়, এলাকায় অন্তত ৫০টি ভবনে চাঁদাবাজি চলছে। সমিতির সহ-সভাপতি মো. তাওহীদুল ইসলাম তালুকদার জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে এই দখল ও চাঁদাবাজি উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তৌহিদুল হক বলেন, “রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের একটি অংশ ক্ষমতায় আসার পর আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শক্তি প্রয়োগ করে দখল ও চাঁদাবাজির কৌশল বেছে নেয়। সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া এসব অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়।”
চাঁদাবাজিতে পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ নাকচ করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিসি (মিডিয়া) আকতার হোসেন বলেন, “সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছি। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।”
সরকারের অবস্থান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “সরকার কাউকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না। তবে সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপরাধ করলে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা না নিলে সরকারকেই মাশুল দিতে হবে। সরকার এ বিষয়ে সচেতন আছে।”
সূত্র-বিবিসি