মোঃ কামরুল ইসলাম রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে ফের অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এতে পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই সাজেকের পর্যটন ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিজয় কান্তি চাকমার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাজেকবাসীর তিন দফা দাবি পূরণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণে প্রশাসন ব্যর্থ হওয়ায় আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠন দুটি।
এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসব ও পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে নতুন করে অবরোধের ঘোষণায় উদ্বেগ বাড়ছে সাজেকের পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। দীর্ঘ সময় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকলে পর্যটক সমাগম কমে যাওয়া, কটেজ-রিসোর্টের বুকিং বাতিল এবং পরিবহন ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করা এবং সাজেক পর্যটনকেন্দ্র উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবিতে বুধবার সকালে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের শাপলা চত্বরে মানববন্ধন করেছেন সাজেক কটেজ-রিসোর্ট মালিক সমিতি, চান্দের গাড়ি (জিপ) চালক সমিতি ও স্থানীয় রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানান তাঁরা।এর আগে, পিসিজেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে গত ১১ অক্টোবর সকাল থেকে সড়ক অবরোধের ডাক দেয় সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাজেকের প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ-অধ্যুষিত এলাকায় সংগঠন দুটি ইউপিডিএফ-সমর্থিত সংগঠন হিসেবে পরিচিত।
নতুন করে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণার ফলে সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পর্যটনকেন্দ্রটির সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে এবং চলমান সংকট নিরসনে প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।