নিউজ ডেস্ক
১৪ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:২১
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় নিখোঁজ হওয়া ৭৩১ জন সেনার দেহাবশেষ উদ্ধারের পর বুধবার তাঁদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর উদ্ধার হওয়া এসব যোদ্ধার দেহাবশেষ হো চি মিন সিটির উপকণ্ঠে একটি শহীদ সেনা সমাধিক্ষেত্রে সমাহিত করা হয়।
হো চি মিন সিটির রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নিহত সেনাদের শেষ শ্রদ্ধা জানান। ভিয়েতনামের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিন বহনকারী বাসগুলো শোভাযাত্রা করে সমাধিক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে যায়। ১৯৬৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় এসব যোদ্ধা নিহত হন। শহরের একটি পার্ক থেকে খননকাজের মাধ্যমে তাঁদের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।
সামরিক বাহিনী জানায়, উদ্ধারকৃত ৭৩১ জনের দেহাবশেষ পৃথক ও গণকবর থেকে তোলা হয়েছে। গত মার্চে শুরু হওয়া ৫০০ দিনের জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই খননকাজ চালানো হয়। যুদ্ধের পর থেকে নিখোঁজ থাকা কয়েক লাখ মানুষের সন্ধানে এটিকে ভিয়েতনামের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শহরের উপমেয়র নগুয়েন মান কুয়ং বলেন, “নিহত সহযোদ্ধাদের সন্ধান অব্যাহত রাখতে কোনো সুযোগ বা পদ্ধতিই আমরা উপেক্ষা করব না।”
তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার কারণে উদ্ধার করা অধিকাংশ সেনার নাম ও তাঁদের আদি নিবাস এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।”
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কেবল স্কোয়াড লিডার হুয়িন ভ্যান কুয়েনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ১৯৪৫ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত যুদ্ধে প্রায় ১২ লাখ ভিয়েতনামি সেনা নিহত হন। দেশজুড়ে পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি এমন ২ লাখ ৩০ হাজার কবর রয়েছে।
সরকার ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে ৭ হাজার সেনার দেহাবশেষ উদ্ধারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় দেহাবশেষের ১৮ হাজার নমুনার ডিএনএ বিশ্লেষণ এবং নিকটাত্মীয়দের জিনগত তথ্য নিয়ে একটি ডেটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে।
ডিএনএ শনাক্তকরণ কেন্দ্রের পরিচালক ত্রান তুং থান বলেন, “নিহতদের স্বজনদের বয়স বাড়ছে, ফলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎস হারিয়ে ফেলার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এছাড়া প্রাকৃতিক পরিবেশে দেহাবশেষের ক্ষয় অব্যাহত থাকায় ডিএনএ সংগ্রহ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।”