সংবাদদাতা / সাতক্ষীরা
রবিবার (১৮ অক্টোবর), ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সাতক্ষীরার দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর সাংবাদিকদের কাছে আমিনী দাবি করেন, শামীমকে হত্যার উদ্দেশ্য তার ছিল না এবং এই ঘটনায় তিনি অনুতপ্ত নন।
দেবহাটা সার্কেল, কালীগঞ্জ থানা, দেবহাটা থানা ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৬-এর যৌথ অভিযানে আমিনীকে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার দুপুরে তাকে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমিনী বলেন, ‘আইনের দৃষ্টিতে আমি অপরাধী। তবে তাকে পিটিয়ে মারার উদ্দেশ্য ছিল না, দুর্ঘটনাবশত ঘটনাটি ঘটে গেছে। সে যে নাস্তিক ছিল, তা বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হুমকির কল থেকে নিশ্চিত হয়েছি। তাই এই ঘটনায় আমি অনুতপ্ত নই।’
গত মঙ্গলবার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে শামীমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাতে নিহত শামীমের বড় ভাই আবদুল জলিল বাদী হয়ে আমিনীকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এর আগে পুলিশ মামলার ৫ ও ৬ নম্বর আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
নিহত শামীমের পরিবার জানায়, তিনি দীর্ঘদিন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত সোমবার তার ও স্ত্রীর বাগবিতণ্ডার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা তার ওপর চড়াও হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে হাসপাতাল থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, ‘ফজলুল হক আমিনী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেবেন বলে জানিয়েছেন। তাই তাকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।’
এসআরবি-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জায়েন উদ্দীন মুহাম্মদ যিয়াদ জানান, সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।