নিউজ ডেস্ক
২০ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:২২ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে একটি মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নিহতরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নজরুল ইসলাম ও টাঙ্গাইলের সুইটি আক্তার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে দাবি করা হলেও পরিবারের তথ্যমতে, তারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী নন এবং কাজের উদ্দেশ্যে আলাদাভাবে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, নজরুল ইসলাম ২০২২ সালের অক্টোবরে এবং সুইটি আক্তার ২০২৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র নিয়ে সৌদি আরবে যান। আটকের পর সৌদি আরবের ক্রিমিনাল কোর্ট তাদের উভয়কে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। তবে রায়ে সন্তুষ্ট না হয়ে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করলে সেখানে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ওই তরুণ-তরুণীর কর্মকাণ্ডের ভিডিও ধারণ করার দায়ে অপর এক ব্যক্তিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আরও অন্তত ২০ জনকে আটক করে সাইবার অপরাধের মামলায় সাজা দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। ঘটনার বিস্তারিত জানতে বাংলাদেশ দূতাবাস সৌদি সরকারের কাছে মামলার রায়ের কপি ও নথিপত্র চেয়েছে।
নজরুলের বাবা জানান, আত্মীয়দের কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ছেলেকে সৌদি পাঠান তিনি। কারাগারে থাকা অবস্থায় মাঝেমধ্যে ছেলের সঙ্গে কথা হতো, তবে মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে পরিবারকে কিছুই জানানো হয়নি। গত ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফোন করে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানানো হয়।
সুইটি আক্তারের বাবা মো. ফজল মিয়া বলেন, ‘‘আমার মেয়ে মসজিদের ভেতরে কোনো অনৈতিক কাজ করেনি। সে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করত এবং কোম্পানির ঝগড়ার ঘটনায় তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়। মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ব্যাপারে মেয়ে আমাদের কিছুই জানায়নি। আমি আমার মেয়ের মরদেহ ফেরত চাই।’’
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা ওই দুই কর্মীর সঙ্গে কাজ করা অন্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।