মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
বুধবার (২১ অক্টোবর) ২০২৬, সকাল ৯টা ১২ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বটতলী মোটর স্টেশনের ময়লা-আবর্জনা রাতের আঁধারে চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার চুনতি ইউনিয়নে মহাসড়কের পাশে বনপুকুর ও জাঙ্গালিয়া এলাকায় ডাম্প ট্রাকে করে এসব বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এ কাজে বাধা দেওয়ায় বনকর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বটতলী শহর পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের পশ্চিম পাশে অভয়ারণ্যের দুটি স্থানে ময়লা-আবর্জনার বড় স্তূপ জমেছে। তীব্র দুর্গন্ধে পথচারীদের নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, নিয়মিত বর্জ্য ফেলার কারণে স্তূপের আকার বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও বন্যপ্রাণীর অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বন বিভাগ জানায়, ১৯৮৬ সালে ঘোষিত প্রায় ৭ হাজার ৭৬৪ হেক্টরের এই অভয়ারণ্যে ১ হাজার ২০০ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং ৪৬৮ প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও পাখি রয়েছে। এটি এশীয় হাতির অন্যতম প্রজননকেন্দ্র ও করিডোর হিসেবে পরিচিত। ২০১২ সালে এই অভয়ারণ্য জাতিসংঘের ‘ইকুয়েটর পুরস্কার’ লাভ করে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বটতলী শহর পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক কাজী নুরুল আলম চৌধুরী বলেন, লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে তাঁরা সেখানে আবর্জনা ফেলছেন। তবে বন বিভাগের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন। বনকর্মীদের হুমকির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ বলেন, বটতলী শহর উন্নয়ন কমিটিকে বন বিভাগের জায়গায় ময়লা ফেলার কোনো অনুমতি তিনি দেননি।
চুনতি অভয়ারণ্যের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, ময়লা না ফেলার নির্দেশ অমান্য করে কমিটির লোকজন বনকর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভয়ারণ্যের এলাকায় ময়লা-আবর্জনা না ফেলতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিষেধ করা হলেও তাঁরা তা মানছেন না। বরং আবর্জনা ফেলতে বাধা দেওয়ায় বনকর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন তাঁরা।