নিউজ ডেস্ক
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর), রাত ৮টা ২১ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট দাবানলে পেরুতে জুন মাস থেকে এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গৃহহীন হয়েছেন কয়েকশ মানুষ। বুধবার (২১ অক্টোবর) দেশটির জাতীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র (সিওইএন) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সিওইএন জানায়, মৃতদের বেশির ভাগই কৃষক। দাবানল নেভানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তারা আহত হন এবং পরবর্তীতে তাদের মৃত্যু হয়। জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পেরুতে মোট ৪৫৭টি দাবানলের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
দাবানলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুসকো অঞ্চল। চলতি মাসের শুরুর দিকে সেখানে ইনকা সভ্যতার নিদর্শন মাচু পিচুর কাছেই একটি দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় এক হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি পুড়ে গেছে এবং প্রায় ১০০টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়া ১২ হাজার হেক্টর প্রাকৃতিক উদ্ভিদ আগুনে পুড়ে গেছে।
লিমার সায়েন্টিফিক ইউনিভার্সিটি অব দ্য সাউথের জীববিজ্ঞানী ড্যানিয়েল ভালে বলেন, “এল নিনোর প্রভাবে পুরো পেরুর ওপর প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক বাতাসের বিশাল স্তর তৈরি হয়েছে। এল নিনোর কারণে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া ও শুষ্ক আবহাওয়ার সৃষ্টি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।”
সাধারণত ফসল ফলানোর জন্য জমি পরিষ্কার করতে কৃষকেরা ঝোপঝাড়ে আগুন দেন, যা থেকে অনেক সময় দাবানলের সূত্রপাত হয়। সিওইএন জানায়, বুধবার আন্দিজ পর্বতমালা ও পেরুর আমাজন অঞ্চলে সাতটি দাবানল জ্বলছিল।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত ঘটনা, যার ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের পানির তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এতে বিশ্বজুড়ে বাতাসের প্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসে। চলতি বছরের ‘সুপার’ এল নিনো ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।