নিউজ ডেস্ক
২৩ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০টা ০১ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চারটি প্রদেশে চলতি বছর ‘মেলিওয়ডোসিস’ বা ‘সয়েল ফিভার’ রোগে ৫৭০ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। দূষিত মাটি ও পানি থেকে ছড়ানো এই সংক্রমণ ঠেকাতে কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম খাওসেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নাখন রাচাসিমায় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ অফিস ৯-এর পরিচালক ডা. সাইলাক ফিমখো জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এই পরিসংখ্যান রেকর্ড করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন ৬৫ বছর ও তার বেশি বয়সীরা। এর পরেই রয়েছেন ৫৫ থেকে ৬৪ এবং ৪৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সীরা।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বুরিরামে সর্বোচ্চ ২৪৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সুরিনে ১৩৯ জন আক্রান্ত ও ১১ জনের মৃত্যু, নাখন রাচাসিমায় ১৩৬ জন আক্রান্ত ও ১৭ জনের মৃত্যু এবং চাইয়াফুমে ৫০ জন আক্রান্ত ও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
সংক্রমণের কারণ ও সতর্কতা
বারখোল্ডেরিয়া সিউডোম্যালি নামের ব্যাকটেরিয়ায় এই রোগ হয়, যা প্রাকৃতিকভাবেই মাটি ও পানিতে থাকে। দীর্ঘ সময় বৃষ্টি ও বন্যার সময় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে, কারণ তখন মানুষ ভেজা মাটি, কাদা ও দূষিত পানির সংস্পর্শে বেশি আসে। কাটা স্থান বা ত্বকের ক্ষত, দূষিত ধুলাবালি শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ অথবা দূষিত পানি ও খাবার গ্রহণের মাধ্যমে এই ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা কৃষক এবং বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ঘরবাড়ি পরিষ্কার করা ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। ডা. সাইলাক ফিমখো বলেন, “মাটি ও পানির সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। মাঠে কাজ বা বন্যাকবলিত এলাকা পরিষ্কার করার সময় রাবারের বুট, গ্লাভস এবং লম্বা ট্রাউজার বা উপযুক্ত পানিরোধী পোশাক পরতে হবে।”
বিভাগটি আরও জানায়, শরীরের কোনো স্থানে খোলা ক্ষত থাকলে তা পুরোপুরি সেরে না ওঠা পর্যন্ত মাটি ও পানির সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে হবে।