নিউজ ডেস্ক
২৩ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০টা ৬ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার হুমকির জবাবে ‘ফাদার অব অল বোম্বস’ বা সব বোমার বাবা নামে পরিচিত নতুন একটি অস্ত্র প্রকাশ্যে আনার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। গত বুধবার দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই ঘোষণা দেয়, যার মাধ্যমে তেহরান নিজেদের সামরিক নীতি প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে আক্রমণাত্মক কৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইয়াং জার্নালিস্ট ক্লাবের বরাতে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি নতুন এই অস্ত্রের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, শত্রুদের জন্য এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি বিষয় হতে যাচ্ছে। তবে নতুন এই অস্ত্রের ধরন বা ধ্বংসক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।
এর আগে গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার ইঙ্গিত দেন। এ সময় তিনি জিবিইউ-৪৩/বি বা ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। ৯ হাজার ৮০০ কেজি ওজনের এই বোমাটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগারে থাকা পারমাণবিক ক্ষমতাহীন সবচেয়ে বড় বোমাগুলোর একটি, যা ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল।
সামরিক নীতিতে বড় পরিবর্তন
আইআরজিসির মুখপাত্র মোহেবি জানান, ২০২৫ সালের জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দেড় গুণ বেড়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের আওতা, ধ্বংসক্ষমতা এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার নির্ভুলতা আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের সামরিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগে তাদের নীতি ছিল কেবল আত্মরক্ষামূলক, কিন্তু এখন থেকে কেউ আক্রমণ করলে ইরান পাল্টা আক্রমণাত্মক কৌশল বেছে নেবে। সামরিক নীতিতে অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশলের ওপর জোর দেওয়া হবে, যাতে শত্রুরা ইরানের হামলার তীব্রতা বুঝতে পারে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলে আরব দেশগুলোতে থাকা তাদের সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় তেহরান। পরবর্তীতে জুন মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হলেও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ও অবাধ চলাচলের প্রশ্নে মতবিরোধের জেরে সেই আলোচনা ভেস্তে যায়।