নিউজ ডেস্ক
রবিবার (২৫ অক্টোবর) ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তেহরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক কেন্দ্র লক্ষ্য করে এই হামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন হোয়াইট হাউসের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে পেন্টাগন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেন্টকমকে যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছে পেন্টাগন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে বেশ কয়েকটি কৌশলগত সামরিক বিকল্প উপস্থাপন করা হয়েছে। ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এই হামলা চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বক্তব্যে দ্বিমুখী সংকেত দিচ্ছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) তিনি প্রয়োজনে ‘আগামীকালই’ হামলা চালানোর ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি তেহরানের সঙ্গে একটি ‘বড় ও চমৎকার’ চুক্তির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেছেন।
মার্কিন ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স জয় ক্লেটন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো এক গোয়েন্দা স্মারকে সতর্ক করেছেন। তিনি জানান, ইরান মধ্যপ্রাচ্য ও অন্য অঞ্চলে মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টা বাড়িয়ে দিয়েছে। এই আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি মার্কিন দূতাবাসে কর্মী সংখ্যা কমিয়ে ফেলা হয়েছে। পেন্টাগন নভেম্বরের শেষ নাগাদ অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা ও রণতরী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইরানের কঠোর প্রতিক্রিয়া
মার্কিন হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে তেহরান। শনিবার ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, আমেরিকানরা আলোচনা ভেস্তে দিলেও সমঝোতার প্রচেষ্টা বজায় রাখা উচিত। রোববার সকালে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘লুকাস’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।
ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) তাদের সামরিক নীতিকে সম্পূর্ণ ‘আক্রমণাত্মক’ করার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া নতুন হামলা শুরু হলে পারস্য উপসাগরের তলদেশের সাবমেরিন কমিউনিকেশন ক্যাবলে আঘাত হানার পরিকল্পনাও প্রস্তুত রেখেছে তেহরান। চলতি অক্টোবর মাসে হরমুজ প্রণালি ও সংলগ্ন অঞ্চলে ১২০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
চ্যাথাম হাউসের সহযোগী গবেষক জুলি নরম্যান বলেন, এই হামলা পরিকল্পনা একাধারে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল ও বাস্তবসম্মত সামরিক বিকল্প। তবে বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, নতুন করে যুদ্ধ বাড়ালে ট্রাম্পের রাজনৈতিক লাভ কী হবে এবং এই হামলা ইরানকে আলোচনায় আনতে পারবে কি না।