মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা প্রচেষ্টার পর অবশেষে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার দুর্গম এলাকার পহরচাঁদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন তিনজন শিক্ষক পদায়ন করা হয়েছে। শিক্ষকসংকট নিরসনে ২০২০, ২০২২ ও ২০২৩ সালে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তখন সফলতা আসেনি। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় এবার নতুন তিন শিক্ষক পদায়নের মাধ্যমে সেই অপেক্ষার অবসান হলো।
বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক পদায়নের লক্ষ্যে এবার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন-নিবেদন করা হয়। প্রতিমন্ত্রী, সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় উপপরিচালক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চাওয়া হয়।
এ উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকসংকট দূর করার লক্ষ্যেই দীর্ঘদিন ধরে এ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছিল। নতুন শিক্ষক পদায়নের ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ সাফল্যের জন্য বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী, বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও পহরচাঁদার কৃতী সন্তান উপজেলা বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট বেলাল উদ্দিন চৌধুরী এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফরের প্রতি।
এ ছাড়া সহযোগিতা ও প্রচেষ্টায় পাশে থাকার জন্য দৈনিক আজাদীর লোহাগাড়া প্রতিনিধি মোহাম্মদ মারুফ, দৈনিক ভোরের আকাশ ও টেলিগ্রাফ লোহাগাড়া প্রতিনিধি মনির আহমদ আজাদ এবং দৈনিক কর্ণফুলীর প্রতিনিধি হোসাইন মেহেদীর প্রতিও ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
পদায়ন পাওয়া তিন শিক্ষক হলেন—মো. সোহেল উদ্দীন, যিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন; পূজা চৌধুরী, যিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিষয়ে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করেছেন; এবং দীপ্ত নন্দী, যিনি চট্টগ্রাম কলেজ থেকে গণিতে বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন তিন শিক্ষক যোগদানের ফলে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীরা মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা লাভের ক্ষেত্রে বাড়তি সুযোগ পাবে।