নিউজ ডেস্ক
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ২০২৬, রাত ৮টা ২৮ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নিরস্ত্র শিক্ষার্থী ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পদ্ধতিগত হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও ১৪ দলীয় জোটকে অপরাধমূলক সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের চার নেতার বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল এই মন্তব্য করে। রায়ে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য তিন নেতাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। রায়ে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক মো. আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আতাউর রহমান আতাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। চার আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
ট্রাইব্যুনাল আসামিদের স্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন। বাজেয়াপ্ত করা এই সম্পত্তি জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রায়ের পঞ্চম অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাধারণ শিক্ষার্থী ও বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে নিপীড়নের অভিন্ন নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা দেশব্যাপী পরিকল্পিত হামলা চালায়। হানিফসহ আসামিরা এই সাংগঠনিক কাঠামোর অংশ হিসেবে জেনেশুনে মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত ছিলেন।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, “মামলার পঞ্চম অভিযোগে জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ বা অভিন্ন অপরাধমূলক উদ্দেশ্য এবং অপরাধমূলক সংগঠনের বিষয়টি উঠে এসেছে। ট্রাইব্যুনালে এই অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং চার আসামিকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “রায়ে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও ১৪ দলীয় জোটকে অপরাধমূলক সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন, ষড়যন্ত্র ও উসকানি দেওয়ার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।”