মোঃ মাহাবুল ইসলাম অভি
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
গাজীপুরের টঙ্গীর গাজীপুরা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আলিম প্রথম বর্ষের এক মাদরাসাছাত্র গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাপ্রবণ ওই এলাকায় নিরাপদে সড়ক পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে তাঁরা এ কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও পরিবহনচালকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুপুরে গাজীপুরা এলাকায় সড়ক পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি মাইক্রোবাসের ধাক্কায় ওই মাদরাসাছাত্র গুরুতর আহত হন। তবে আহত শিক্ষার্থীর নাম, পরিচয়, কোন মাদরাসায় তিনি পড়াশোনা করেন এবং তাঁকে কোথায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে—এসব বিষয়ে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। নিরাপদে রাস্তা পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় ভবিষ্যতে আরও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তাঁরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
দুর্ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমে এলে একপর্যায়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ শুরু হয়। তাঁদের মূল দাবি, গাজীপুরা এলাকায় পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারের জন্য দ্রুত একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে শুধু তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নয়, বরং স্থায়ী ও কার্যকর অবকাঠামোগত ব্যবস্থাও প্রয়োজন। তবে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা নির্দিষ্ট সময়সীমার তথ্য পাওয়া যায়নি।
অবরোধের ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে। যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং অন্যান্য পরিবহনে চলাচলকারী মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। কর্মজীবী মানুষ, দূরপাল্লার যাত্রী এবং বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় যাতায়াতকারী ব্যক্তিদের যাত্রায় বিঘ্ন ঘটে। গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়েও যাত্রীদের ভোগান্তি তৈরি হয়। তবে যানজটে আটকে পড়া যানবাহনের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা কিংবা কতক্ষণ যান চলাচল বন্ধ ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা এবং মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালান। পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আলোচনার ফলাফল, অবরোধ প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট সময় এবং এ ঘটনায় কোনো মামলা বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কীভাবে স্বাভাবিক হয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
গাজীপুরা এলাকায় বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ ঘিরে শিক্ষার্থীদের দাবির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নিরাপদ সড়ক পারাপার। ব্যস্ত সড়কে পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের ব্যবস্থা না থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সী পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন অনুযায়ী দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান পরিদর্শন, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, সড়ক পারাপারের নিরাপদ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়গুলো বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে গাজীপুরা এলাকার বর্তমান সড়কব্যবস্থা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক কারিগরি মূল্যায়নের তথ্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই, পথচারীদের চলাচলের ধরন পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট সড়ক কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করাও প্রয়োজন। এসব পদক্ষেপ নেওয়া হলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নিরসনে সহায়তা করতে পারে। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা কোনো সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায়নি।
এদিকে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচির কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগের বিষয়টিও সামনে এসেছে। সড়কে দুর্ঘটনার প্রতিবাদ ও নিরাপদ পারাপারের দাবি গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকলে সাধারণ যাত্রী, রোগী পরিবহন, কর্মজীবী মানুষ এবং পণ্যবাহী যানবাহন সমস্যায় পড়তে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দাবির কার্যকর সমাধান এবং জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আহত শিক্ষার্থীর নাম-পরিচয় ও শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পাশাপাশি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।