ফরিদ আহমেদ,
ব্রাহ্মণবাড়িয়া,প্রতিনিধি:
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে প্রথমবারের মতো ড্রাগন ফলের চাষ করে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলেছেন কৃষক আলী আজ্জম। উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এক একর জমিতে তিনি গড়ে তুলেছেন ড্রাগন ফলের বাগান। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মৌসুমে এ বাগান থেকে ৮ থেকে ১০ টন ফল উৎপাদনের আশা করছেন তিনি। এতে বাজারদর অনুযায়ী ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা বিক্রির সম্ভাবনা দেখছেন এই কৃষক।
আলী আজ্জমের এ উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে বিকল্প ও লাভজনক ফসল চাষের আগ্রহ বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
কৃষি তথ্য অনুযায়ী, উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ড্রাগন ফল ভালো জন্মে। অতিরিক্ত অম্লীয় বা ক্ষারীয় নয়—এমন প্রায় সব ধরনের মাটিতে এ ফল চাষ করা যায়। তবে জৈব পদার্থসমৃদ্ধ বেলে-দোআঁশ মাটি এবং পানি নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থা ড্রাগন চাষের জন্য বেশি উপযোগী।
চাষে প্রয়োজন পরিকল্পিত পরিচর্যা
ড্রাগন ফল ক্যাকটাসজাতীয় উদ্ভিদ। এর কাণ্ড নরম হওয়ায় গাছের বৃদ্ধির জন্য খুঁটি বা শক্ত অবলম্বন প্রয়োজন হয়। সাধারণত ৬ থেকে ৭ ফুট উঁচু সিমেন্টের খুঁটি ব্যবহার করে গাছ লাগানো হয়। খুঁটির মাথায় গোলাকার অবলম্বন তৈরি করলে গাছের শাখা ছাতার মতো ছড়িয়ে বেড়ে উঠতে পারে।
ড্রাগন ফলের বংশবিস্তার সাধারণত কাণ্ডের কাটিং থেকে করা হয়। উপযুক্ত মাটিতে চারা রোপণ, জৈব সার প্রয়োগ, নিয়মিত সেচ এবং জমিতে পানি জমতে না দেওয়ার মাধ্যমে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে ফুল ঝরে পড়া, ফল পচে যাওয়া এবং গাছের গোড়ায় পচন ধরার ঝুঁকি থাকে।
সাধারণত চারা লাগানোর ১২ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে গাছে ফল আসতে শুরু করে। তৃতীয় বছর থেকে গাছের উৎপাদনক্ষমতা বাড়ে। পূর্ণবয়স্ক বাগানে পরিচর্যা ও পরিবেশের ওপর নির্ভর করে একরপ্রতি ৮ থেকে ১০ টন ফল উৎপাদন সম্ভব বলে কৃষি-সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
বাজারদর ভালো, বাড়তি আয়ের সুযোগ
ড্রাগন ফলের বাজারদর ভালো থাকায় বাণিজ্যিকভাবে এ ফল চাষে লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি কেজি ফল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করা গেলে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের খরচ বাদ দিয়ে কৃষকের ভালো মুনাফা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বাজারদর, উৎপাদন খরচ ও ফলের মানের ওপর প্রকৃত লাভ নির্ভর করবে।
এ ছাড়া ড্রাগন বাগানের সারির মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গায় উপযুক্ত ফুল, শাকসবজি বা অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি ফসল চাষ করেও বাড়তি আয় করা সম্ভব।
বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করতে চান আলী আজ্জম
কৃষক আলী আজ্জম বলেন, ‘আমি বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফল চাষ করে উৎপাদিত ফল বিক্রি করতে চাই। এ বাগান থেকে ভালো ফলন ও আয় হবে বলে আশা করছি।’
নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, উদ্যোগী কৃষক ও ছোট-বড় উদ্যোক্তাদের জন্য ড্রাগন ফল চাষ একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প ফসল হতে পারে। পরিকল্পিতভাবে চাষ ও পরিচর্যা করতে পারলে এ ফলের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিক চাষ সম্প্রসারিত হলে কৃষকদের জন্য নতুন আয়ের পথ তৈরি হতে পারে। আলী আজ্জমের বাগান সে সম্ভাবনার একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।