নিউজ ডেস্ক
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ২০২৬, বিকেল ৫টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। শনিবার সকালে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মন্ত্রী বলেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষাবর্ষ না হারায় এবং দ্রুত মূল ধারায় ফিরতে পারে, সেজন্য সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়া হবে। যারা এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে না বা অংশগ্রহণ করবে না, তাদের কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার আওতায় এনে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উত্তরপত্র মূল্যায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার প্রতিটি পরীক্ষককে কমসংখ্যক খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে খাতা পুনর্মূল্যায়নের পর হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। এসব অনিয়ম ও দুর্বলতা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ বছর পাসের হার ও জিপিএ-৫ কিছুটা কমে যাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এটি কোনো একটি বিষয়ের ঘাটতির কারণে হয়নি। সামগ্রিক শিখন পদ্ধতি, পাঠ্যবই ও শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের যে ঘাটতি রয়েছে, তা পুনর্মূল্যায়ন করে দূর করতে হবে। ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে ফলের অবনতি ঠেকাতে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেসব কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম বা পাসের হার শূন্য, সেগুলোকে ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এতে কোনো শিক্ষকের চাকরি যাতে না যায়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।
শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের নজরদারির আওতায় আনার ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার কেন্দ্রের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষেও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। বড় শহরের পাশাপাশি গ্রামের শিক্ষকদেরও নিয়মিত ক্লাস নেওয়া নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন রিমন এবং বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।