নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ৮টা ২৯ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সংবিধান সংস্কার ও উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে রাজপথে লংমার্চ না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, উচ্চকক্ষ গঠন, এর ক্ষমতা ও কার্যপরিধি নির্ধারণের মতো জটিল বিষয়গুলো কেবল রাজনৈতিক সমঝোতা ও আলোচনার মাধ্যমেই সুরাহা করা সম্ভব। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
‘স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক সেমিনারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উচ্চকক্ষ যদি পিআর পদ্ধতিতে গঠন করা হয়, তবে এর কর্মপরিধি ও এখতিয়ার কী হবে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে এসে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নোট অব ডিসেন্টগুলো শিথিল করতে হলে আলোচনা করতে হবে। সেটা লং মার্চে হবে না।’
উচ্চকক্ষের ক্ষমতা নির্ধারণের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে গঠন করা গেলে সেই উচ্চকক্ষকে কী কী এখতিয়ার দেওয়া যাবে, তা নির্ধারণ করতে হবে। যদি সেটি অনির্বাচিত হয়, তাহলে নির্বাচিত সিনেটের মতো ক্ষমতা দেওয়া যাবে কি না, সেটিও আলোচনার বিষয়।’
আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘নিম্নকক্ষে পাস হওয়া আইন পর্যালোচনা বা অনুমোদনের জন্য উচ্চকক্ষে পাঠানো হলে কত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে, তা নির্ধারণ করতে হবে। তা না হলে সংসদীয় ব্যবস্থায় আইন প্রণয়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে।’
রাজনৈতিক সমঝোতার গুরুত্ব
সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে কেবল আদেশের ওপর নির্ভর না করে রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক সমঝোতা হলে সবাই মিলে প্রতিশ্রুতি দিলে তখন আর আদেশ করতে হয় না। সমঝোতার দলিলে স্বাক্ষর হলে সেটি অঙ্গীকারে পরিণত হয়। যারা সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করবে, পরবর্তী সংসদে তাদের রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে।’
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিচারকদের স্বাধীনতার কথা বলার পাশাপাশি তাদের জবাবদিহি আছে কি না, সেটিও দেখতে হবে। প্রতিষ্ঠান নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা দেওয়ার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে জবাবদিহি আইনের মাধ্যমে নির্ধারণ করে দিতে হবে। তা না হলে সেই প্রতিষ্ঠানও স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে উঠবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অবশ্যই চাই এবং তা নিশ্চিত করব। বিচারকরা বিচারকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট স্বাধীন। তবে বিচারক নিয়োগ ও তাদের জবাবদিহির বিষয়টিও সংবিধানে স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন।’