বাঘারপাড়া প্রতিনিধি।।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বোর ধানের ক্ষেতের ধানের শীষ শুকিয়ে সাদা হয়ে গেছে । কষ্টের ধান ক্ষেতের এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক।
বিদ্যুতের মতো ছুঁলেই সর্বনাশ- এমন ধারণা থেকেই কৃষক পোকাটির নাম দিয়েছে ‘কারেন্ট পোকা’। পোকাটি দেখতে মাথার উকুনের মতো পোকাটি বেশ বোকাই বানাচ্ছে কৃষকদের। তবে কৃষিবিদরা বলছেন বাদামি গাছ ফড়িং।
বাঘারপাড়ার বিভিন্ন এলাকার জমিতে ওই পোকা হানা দিয়েছে। এতে করে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক। যদিও আক্রমনের হার খুবই কম।
রোববার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন গিয়ে ধান গাছে পোকার আক্রমণের ছবি চোখে পড়ে। এ নিয়ে হাপিত্যেশ করতে থাকা কৃষকরা জানায়, এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কীটনাশক ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু যে গাছে পোকা আক্রমণ করেছে, সেগুলোকে বাঁচানো যাচ্ছে না। এতে তারা অনেক ক্ষতির মুখে পড়বে।
উপজেলার খানপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা ব্যস্ত কীটনাশক ছড়ানো নিয়ে। এ গ্রামের কৃষক মনুমিয়া জানান, তার ২৪ শতক জমির জিরা মিনিকেট ধানে কারেন্ট পোকা হানা দিয়েছে। সমস্ত জমির ধানের শীষ শুকিয়ে সাদা হয়ে গেছে। ধানের এ অবস্থায় দিশেহারা তিনি।
কৃষক মনুমিয়া আরোও বলেন, ওষুধ দিছি। কিন্তু কোনো হচ্ছে না। কারেন্ট পোকা আমার ক্ষেতটাকে শেষ করে দিয়েছে। কিন্তু জমিতে কোনো সময় এই পোকা পড়তে দেখছি না।
কথা হয় নারিকেলবাড়িয়া উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিমের সাথে। তিনি বলেন, ‘পোকাটি গাছের রস শোষণ করে নেয় বলে এটি ধীরে ধীরে সাদা হয়ে যায়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার এ পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। তবে দিনরাত মাঠে থেকে আমরা কৃষকদের কীটনাশক ছড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছি। যে কারণে পোকা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ‘
চাষী মনুমিয়া আরোও জানান, ‘এবার ধানের বাম্পার ফলন। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগও নাই। ভেবেছিলাম অনেক বেশি ধান গোলায় তুলবো। কিন্ত কারেন্ট পোকায় ধান খেয়ে সাদা করে দিচ্ছে’।
বাঘারপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমীন জানান, এবছরে আবহওয়া অনুকুলে থাকায় ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি। কারেন্ট পোকার আক্রমনের কথা এপর্যন্ত শুনি নাই। বিষয় টি আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি।