বিডিটেলিগ্রাফ ডেস্ক।।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
২০০২ সালে ভারতে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার সময় একজন গর্ভবতী মুসলিম নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করার দায়ে দণ্ডিত এগারোজন হিন্দু পুরুষকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলেন, সোমবার গুজরাটের পশ্চিম রাজ্যের পঞ্চমহলের জেল থেকে তাদেরকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সিএনএন
গত সোমবার ভারত ব্রিটিশ শাসন অবসানের ৭৫ বছর উদযাপন করেছে। আর সেই দিনই ১১ জন আসামীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ২০০৮ সালের প্রথম দিকে তারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। দেশটির কর্মকর্তারা বলেন, তাদেরকে মুক্তির ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী, আইনজীবী ও বিরোধী রাজনীতিবিদরা নিন্দা জানিয়েছেন।
২০০২ সালের গুজরাটের সহিংসতা ভারতের সবচেয়ে খারাপ ধর্মীয় দাঙ্গাগুলোর মধ্যে একটি। সেই দাঙ্গায় অন্তত ১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিলো। তাদের বেশিরভাগই ছিলেন মুসলিম। তখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গুজরাটে এখনো শাসন করছে হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টি।
গুজরাটের পঞ্চমহলের শীর্ষ আমলা সুজল জয়ন্তীভাই মায়াত্র রয়টার্সকে বলেন, জেলা কারাগার উপদেষ্টা কমিটি দণ্ড পাওয়া ১১ জনের কারাগারে কাটানো সময় ভাল আচরণ বিবেচনা করে মুক্তির সুপারিশ করেছিল।
তিনি আরো বলেন, সত্য হলো দণ্ড পাওয়া আসামীরা প্রায় ১৫ বছর জেলে কাটিয়েছে। তাই তারা ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য ছিল। ভারতীয় আইন অনুযায়ী ১৪ বছর জেলে থাকার পর দোষীদের ক্ষমা চাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
নিহতের স্বামী ইয়াকুব রসুল রয়টার্সকে বলেন, দণ্ড পাওয়া ১১ আসামীকে মুক্তি দেওয়ায় তারা হতাশ। দাঙ্গার সময় তার পরিবারের অনেক সদস্য নিহত হয়েছিলো।
কাছে আগে থেকে কোনো তথ্য ছিল না। আমরা মিডিয়া থেকে তাদের মুক্তির বিষয়ে জেনেছি।
প্রবীণ আইনজীবী আনন্দ ইয়াগনিক বলেন, গণধর্ষণ ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের দোষীদের সাজা মওকুফ করা নৈতিকভাবে অনুচিত। আমাদেরসময় ডটকম