খাজুরা প্রতিনিধি।।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাঘারপাড়ার খাজুরা এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটছেই। এবার গভীর রাতে যশোর থেকে প্রকাশিত গ্রামের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার এম. জিহাদের গ্রামের বাড়িতে হানা দিয়েছে একদল চোর। খবর পেয়ে বুধবার (২৪ আগস্ট) সকালে বাঘারপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মকবুল হোসেন ও খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক এসআই অভিজিৎ সিংহ রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার(২৩ আগষ্ট) দিবাগত রাতে স্থানীয় জহুরপুর ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামে ওই সাংবাদিকের বাড়িতে ঢুকে নগদ ১২ হাজার টাকা, দেড় লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার ও ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্মার্ট টেলিভিশন নিয়ে সটকে পড়ে চোররা।
এম. জিহাদের পিতা সাবেক ইউপি সদস্য জিল্লুর রহমান জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। বাড়ির কলাপসিবল গেটে তালা দিতে মনে না থাকায় চোররা ঘরে ঢুকে সহজেই মালামাল চুরি করে পালিয়ে যায়।
এর আগে গত এপ্রিল থেকে জুলাই মাসে যাদবপুর গ্রামেই মোট সাতটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সাজেদুর রহমান সবুজের বাড়ি থেকে ইলেকট্রিক মটর, টেলিভিশন, গ্যাসের চুলা ও সিলিন্ডারসহ প্রায় ৬০ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়ে যায়। এছাড়া আজিজুল লস্কারের বাড়ি থেকে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি ছাগল, মেসার্স রিয়াদ স্টোর থেকে শুক্রবার দুপুরে শার্টার ভেঙে নগদ ৪০ হাজার টাকা, খোকন লস্কারের বাড়ি থেকে বাজাজ প্লাটিনা মোটরসাইকেল, রহমান লস্কারের বাড়ি থেকে বাইসাইকেল, হবিবার মুন্সীর বাড়ি থেকে ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি সোনার চেইন চুরি হয়ে যায়।
এদিকে, দিনে-দুপুরে গত মাসে স্থানীয় বন্দবিলা ইউনিয়নের খাজুরা বাজার সংলগ্ন মথুরাপুর এলাকার ওয়াহিদুজ্জামান সেন্টুর বাসা থেকে বাইসাইকেল, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে এক যুবকের স্মার্টফোন, খাজুরা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা মসজিদের সামনে থেকে আব্দুর রহমান নামে এক মুসল্লির বাইসাইকেল, খাজুরা বাজার থেকে কোদালিয়া গ্রামের শিমুল হোসেনের বাইসাইকেল, ধর্মগাতী এলাকার বাসিন্দা এক স্কুল ছাত্রের বাইসাইকেল, স্থানীয় রায়পুর ইউনিয়নের ভদ্রডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল মাজেদ মাস্টারের বাড়ি থেকে বাইসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। এছাড়া, ভোররাতে স্থানীয় লেবুতলা ইউনিয়নের তেজরোল গ্রামের রুবেল হোসেনের বাড়ি থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকা, টেলিভিশন ও মুঠোফোন চুরি হয়। এ ঘটনায় কোতয়ালি মডেল থানায় একটি জিডি করা হলেও এখনো পর্যন্ত কোন মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এর সপ্তাহ খানেক পরেই পার্শ্ববর্তী কোদালিয়া গ্রামের বাবলু মিয়ার বাড়ি থেকে লাখ টাকা মূল্যের একটি গরু চুরি খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও, গত দুই মাস আগে খাজুরা বাজার সংলগ্ন তেলীধান্যপুড়া জামে মসজিদের সামনে থেকে লির্বাটি বাবু’র বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল ও পার্বতীপুর জামে মসজিদের সামনে এক মুসল্লির বাজাজ ডিসকভার মোটরসাইকেল চুরি হয়।
এদিকে, একের পর এক চুরির ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাদের ধারণা- চুরির পেছনে প্রধান কারণ মাদক। মাদকের টাকা জোগাতে স্থানীয় মাদকসেবী ও উঠতি বয়সী কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক চুরির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। খাজুরা এলাকার বিভিন্নস্থানে সন্ধ্যার পরই শুরু হয় মাদকের আড্ডা। প্রকাশ্যে মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের আড্ডা বসলেও নেই পুলিশের কোনো তৎপরতা।
জানতে চাইলে বাঘারপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মকবুল হোসেন জানান, এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ছোটখাটো দু-একটা চুরির ঘটনা ঘটলেও থানায় কেউ অভিযোগ করেনা। পুলিশের পাশাপাশি নিজের জানমাল রক্ষায় নিজেদেরও সতর্ক থাকতে হবে। মাদকসহ অপরাধপ্রবণতা ঠেকাতে এলাকায় পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।