বাঘারপাড়া প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাঘারপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের খানপুর গ্রামে মাত্র দেড় কি;মি; মাটির সড়ক দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সংস্কার না করায় লোক চলাচলের অনুপোযোগি হয়ে পড়েছে। ফলে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষের চলাচলে পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দূর্ভোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই ওই এলাকার প্রায় ১ কিঃ মিটার কাঁচা রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি পাকা করার দাবি করে আসলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করে। বর্ষা মৌসুমে মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল কিংবা রিকসা-ভ্যান নিয়ে চলাচল করা যায় না। গ্রামের কিছু শিশু, কিশোর ও তরুণ মিলে কাঁচা রাস্তায় ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ করে। তাতেও কোন ফল না পেয়ে নিজেরা রাস্তাটির মাত্র একস্থানে কিছু ইট কিনে বিছিয়ে দিয়েছে।
নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বাব্লু সাহা বলেন, রাস্তাটি অনেক দিনের পুরোনো। বর্ষা এলে দুর্ভোগের সীমা থাকে না। এ রাস্তার উন্নয়নের জন্য এডিপি প্রকল্পের তালিকাভুক্ত করা হবে। নানা জটিলতার কারণে রাস্তাটির কাজ করা সম্ভব হয়নি। আশা করছি আগামীতে অবশ্যই এ রাস্তার উন্নয়ন কাজ করা হবে।
সরজমিন দেখা গেছে,গ্রামের একেবারে উত্তরপ্রান্তের এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অযোগ্য হলেও আজ পর্যন্ত সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য জাকির হোসেনের বাড়ির মোড় হতে পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তায় ছোট বড় প্রায় শতাধিক খাদ সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার দুই পাশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় রাস্তার প্রশস্ততা কমে গেছে।
এলাকারবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ ১০-১৫ বছর যাবৎ এ রাস্তার বেহাল দশা হলেও এ পর্যন্ত কোনো নেতা বা জনপ্রতিনিধির এদিকে নজর পড়েনি। খানপুর গ্রামের ভ্যানচালক রবিউল ইসলাম বলেন, বছরের পর বছর যাবৎ এ রাস্তাটি থাকলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। একই গ্রামের ভ্যান চালক মনু মোল্লা জানান, বেহাল দশার এ রাস্তা দিয়ে ছোট একটি যানবাহন নিয়ে যাত্রী এবং মালামাল বহন করি। কিন্তু রাস্তা অত্যন্ত খারাপ হওয়ার ফলে প্রায় প্রতিদিনই ছোট বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছি।
ওই এলাকার ছেলে সাবেক সেনা সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করা খুবই দুরুহ ব্যাপার। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করেছি কিন্তু কিছুই হয়নি,তবে তিনি রাস্তার উন্নয়ন করবেন বলে জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে নারিকেল বাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান বাবলু কুমার সাহা বলেন, বিষয় টি অবহিত হয়েছি, আশা করছি বর্ষা মৌসুমে র পরে রাস্তার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনতে পারবো।