বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি। যশোরের বাঘারপাড়ার ভাঙ্গুড়া পশু হাটে ইজারায় বাধা নেই বলে
আদালত আদেশ দিয়েছেন। দির্ঘদিন উচ্চ আদালতে দেওয়ানী মামলা থাকায় হাট ইজারা কার্যক্রম
স্থগিত ছিল। হাট ইজারা বন্ধ থাকায় প্রায় ৬০ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
আজ সোমবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে সরকারি আদেশ বাস্তবায়ন করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসনে
আরা তান্নি ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) তামান্না ফেরদৌস হাটে যেয়ে সরেজমিনে দখল বুঝে নেন এবং খাস আদায়ের তদারকি করেন।
জানা গেছে, ভাঙ্গুড়া হাট সরকারের ইজারাভূক্ত ছিলো দীর্ঘদিন। সপ্তাহের প্রতি সোম ও শুক্রবার
হাটটি ভাঙ্গুড়া আদর্শ মহাবিদ্যালয়ও আমুড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বসে
আসছিল। সপ্তাহের সোমবার শুধু মাত্র পশু বেচাকেনা হতো। প্রতি বছর এখান থেকে লাখ লাখ
টাকা রাজস্ব আদায় হতো। ১৪২৮ বাংলা (ইংরেজি ২০২১) সালে ১৫ লাখ ৭৫ হাজার ৫’শ টাকায়
হাটটি ইজারা নেন স্থানীয় টিপু সুলতান। একই বছর বুলবুল নামের এক ব্যক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
চত্বরে অবস্থিত ভাঙ্গুড়া পশু হাটের বৈধতা নিয়ে সহকারি জজ আদালত যশোরের মামলা করেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চত্বরে অবস্থিত পশু হাটকে অবৈধ ঘোষণা করেন আদালত। আদালতের আদেশের উপর
আপিল করেন টিপু সুলতান। এরপর উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দেন বুলবুল। উচ্চ আদালতে মামলা
চলে দির্ঘদিন। সে সময় থেকে টিপু সুলতান হাটটি দখল করে রেখেছিল। আদালতে মামলা থাকায়
প্রশাসনও ব্যবস্থা নিতে পারছিলেন না।
গত ১২ নভেম্বর যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক পত্রে ভাঙ্গুড়া হাট সংক্রান্ত বিষয়ে
মহামান্য হাইকোর্ট ও নিন্ম আদালতে কোন মামলা চলমান না থাকায় ইজারা কার্যক্রম গ্রহনের
নির্দেশনা প্রদান করেছেন। নির্দেশনা মোতাবেক জমির মালিক ও পূর্বে ইজারা গ্রহিতাকে
হাটের কার্যক্রম গ্রহনে বিরত থাকার জন্য অবহিত করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসনে আরা তান্নি জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের
চিঠি পাওয়ার পর উপজেলা পরিষদ হাট বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির বিশেষ সভায় ভাঙ্গুড়া হাট
সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে পত্র জারি করা হয়েছে । এখন থেকে সরকারি ভাবে
হাট ইজারা গ্রহন করা হবে। তিনি আরও জানান, বর্তমান পশুহাট থেকে পশ্চিম পাশে যশোর-
নড়াইল সড়কের দক্ষিনে এ হাটটি বসবে।