1. bdtelegraph24@gmail.com : বিডিটেলিগ্রাফ ডেস্ক :
  2. suma59630@gmail.com : ফাতেমা আকতার তোয়া : ফাতেমা আকতার তোয়া
  3. limonhosen529@gmail.com : Limon Hossain : Limon Hossain
  4. mirzagonj@bdtelegraph24.com : মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি : মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি
  5. tarim7866@gmail.com : তারিম আহমেদ : তারিম আহমেদ
  6. wasifur716@gmail.com : Wasifur Rahaman : Wasifur Rahaman
আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নূরুল ইসলাম - bdtelegraph24.com
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নাসিরনগরের ৬ নারী স্বর্ণের চেইন চুরির অভিযোগে চট্টগ্রাম হাসপাতালে আটক যশোরে পিকআপের ধাক্কায় মা ও শিশুসন্তান নিহত মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে তদন্ত চাইলেন এমপি মাসুদ সাঈদী ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত শুরু: দৈনিক সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৩ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র, ৩০৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ ইরানে হামলার পরিকল্পনা সেন্টকমের: অনুমোদনের অপেক্ষায় ট্রাম্প কুরআনের আয়াত থেকে অনুপ্রেরণা: চলন্ত স্কুল বাস থামিয়ে ১৯ শিশুর প্রাণ বাঁচালেন যুবক গোপালগঞ্জে পিকআপ চাপায় বাবা ও মেয়ে নিহত ফরিদপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৩ হাজার মণ পাট ভস্মীভূত, ক্ষতি ২ কোটি টাকা

আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নূরুল ইসলাম

  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ৩১৩ জন খবরটি পড়েছেন

।। লক্ষ্মণ চন্দ্র মন্ডল ।। ১৯৪৩ সালের ১৫ এপ্রিল বাঘারপাড়ার যাদবপুর গ্রামে মাস্টার নূরুল ইসলাম এর জন্ম। পিতা বকতিয়ার বিশ্বাস (বক্ত) ও মাতা জবেদা খানমের ৪ পুত্র সন্তানের মধ্যে মাস্টার নূরুল ইসলাম দ্বিতীয়।

হোয়াটসঅ্যাপে ফলো করুন
Telegraph Bangladesh WHATSAPP Channel

হোয়াটসঅ্যাপে ফলো করুন

দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।

খাজুরা এমএন মিত্র ইনস্টিটিউশন এরপর যশোর একাডেমিক হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন।ঐ সময় নূরুল ইসলাম নিজ গ্রামের সর্ব প্রথম ম্যাট্রিক পাশ করায় মানুষের কাছে খুবই প্রশংশিত হন। ম্যাট্রিক পাশের পর ১৯৫৮ সালে যশোর এম্এম কলেজে ভর্তি হন। ঐ সময় তিনি রাজনীতি ও আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬২ সালে যশোর এমএম কলেজের জিএস নিবার্চিত হয়ে বৃহত্তর যশোর জেলার ছাত্র নেতা হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।

আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা হিসাবে নূরুল ইসলাম ছাত্র অবস্থায় সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করে। আইয়ুব খানের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে যখন দেশব্যাপি ব্যাপক ছাত্র আন্দোলন গড়ে ্ওঠে তখন যশোর এম্এম কলেজের তৎকালীন জিএস নুরুল ইসলাম সে সব আন্দোলনের অগ্রভাগেই থাকতেন। তিনি তখন ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। শহরের দড়াটানায় ঐতিহ্যবাহি আলী মন্জিলের উপরে ছোট্ট একটা চিলেকোটায় থাকতেন নূরুল ইসলাম।ঐ সময় তিনি গুরুতর অসুস্থ হন। পিত্তথলিতে পাথর হয় তার। এর সুষ্টু চিকিৎসা তখন যশোরে ছিল না।

ছাত্র নেতা নুরুল ইসলাম তখন ঢাকা মেডিকেল কলেজের তৎকালীন ছাত্রনেতা ড. খলিলুল্লাহের কাছে গেলে তিনি সাথে করে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর কাছে গেলে ছাত্র নেতা নুরুল ইসলাম যেন আকাশের মত উদার মহান ব্যক্তির সন্ধান লাভ করলেন। নুরুল ইসলাম ছাত্র ইউনিয়ন করলেও বঙ্গবন্ধুর আন্তরিকতার কোন অভাব ছিল না। অসুস্থতার বিবরন শুনে মুহুর্তের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ফোন করলেন ডাঃ কে এস আলমকে। পরদিনই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৪ নম্বরে ভর্তি করান নুরুল ইসলামকে। বেশ মযার্দার সাথে যাবতীয় চিকিৎসার ব্যাবস্থা করে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

নুরুল ইসলাম ছিলেন যশোর উদীচীর প্রথম সভাপতি। বাকশাল গঠিত হলে যশোরে তৎকালীন এমপি রওশন আলীকে বঙ্গবন্ধু করেছিলেন যশোরের গর্ভনর। নুরুল ইসলামকে বঙ্গবন্ধু করেছিলেন সেক্রেটারী টু গর্ভনর। ছাত্র অবস্থায় ১৯৫৮ সালে খাজুরা এমএন মিত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত ঐ বিদ্যালয়ে শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ঐ সময় নূরুল ইসলাম জহুরপুর ইউনিয়নের সর্বপ্রথম বিএ পাশ (ডিগ্রী পাশ) করেন। এই হিসাবে গোটা ইউনিয়নের গর্বিত ব্যক্তি হিসাবে মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি মাওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক দল ন্যাপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যশোর জেলার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। ১৯৬৬ সালে ন্যাপ এর যশোর জেলার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নিবার্চিত হন। ১৯৭১ সালে কালীগঙ্গের চাপরাইল হাই স্কুলে প্রধান শিক্ষক থাকাকালে দেশে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়। ঐ সময় তিনি ভারতে মুক্তিযুদ্ধা সংগঠক হিসাবে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নিয়ে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি স্বাধীনতা উত্তরকালে উদীচি শিল্পীগোষ্ঠীর যশোরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নির্বাচিত হন। মাওলানা ভাসানী, হেমন্ত সরকার , আ. হক প্রমুখ নেতার সান্নিধ্যে থেকে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নিবার্চিত হন। ১৯৬২ সালে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৬৫ সালে কালীগঞ্জের নলডাঙ্গা রাজবাড়ীর মৃত সৈয়দ আলী খাঁনের ১ম কন্যা মিসেস শামছুন নাহারের সাথে (মাওলানা ভাসানীর মধ্যস্থতায়) মাস্টার নূরুল ইসলামের দাম্পত্য জীবন শুরু হয়। ১৯৭৩ সালে (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) যশোর ৪ আসনে ন্যাপের পক্ষে সংসদ সদস্য পদে কুড়েঘর প্রতীক নিয়ে জাতীয় সংসদ নিবার্চনে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। ১৯৭৫ সালের ভয়াল রক্তাক্ত আগষ্টের আগে যশোরে এসেছিলেন তৎকালীন বানিজ্য মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক।যশোর সার্কিট হাউজে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় সভা হয়েছিল। সে সময় মোশতাকের অনেক কথা পছন্দ হয়নি নুরুল ইসলামের। তিনি ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেয়েছিলেন। পরিস্কার ভাষায় তিনি খন্দকার মোশতাককে বলেছিলেন ‘ইউ আর নট এ গুড ম্যান‘। এর জবাবে উত্তেজিত হননি মোশতাক। বরং একান্তে ডেকে নুরুল ইসলামকে বলেছিলেন ‘শত্রুরা সব শক্তিশালী।আমাদের সাবধানে এগুতে হবে‘। তার এ কথায় তখনো বোঝা যায়নি মোশতাক গং কত বড় ষড়যন্ত্রের ছক আকঁছিল। ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হলে ঐ রাতেই গ্রেফতার হন নূরুল ইসলাম। সে সময় তিনি শহরের ঘোপ এলাকায় যশোর জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের চাচা শামছুদ্দিন মিয়ার একটা গোলপাতার ভাড়া ঘরে বাস করতেন। তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকাকালীন যশোর জেনারেল হাসপাতালে কতকটা বিনা চিকিৎসায় অকাল মারা যায় নূরুল ইসলামের মেজো ছেলে মনিরুল ইসলাম তুহিন। সেদিন আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম মিলন জেলা প্রশাসক সৈয়দ আলমগীর ফারুক চৌধুরীর বাসভবনে যান নূরুল ইসলামের প্যারোলে মুক্তির জন্য। মিলনের আন্তরিক অনুরোধে জেলা প্রশাসক সরাসরি সরাষ্ট্র সচিবের সাথে ফোনে যোগাযোগ করেন। সেদিন বিকেল সাড়ে তিনটেই মুক্তি পান নূরুল ইসলাম। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন ‘জেনারেল আইয়ুব খান,জিয়া,এরশাদ সবাই আমাকে ডেকেছেন। কিন্তু আমি যাইনি। তাদের ডাকে সাড়া দেইনি। কারন বঙ্গবন্ধুর মত বিশাল হৃদয়ের মানুষ আমি আর পাইনি‘। মাস্টার নূরুল ইসলামের ৪ পুত্র ১ কন্যা সন্তান উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ায় সমাজে গর্বিত পিতা হিসেবে তিনি সমাদৃত হয়েছেন। ১ম পুত্র মেজর কামরুল ইসলাম। তার স্ত্রী ডা. অদিতি নাজিয়াত অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি লন্ডনের প্রফেসর। ২য় সন্তান মো. শরিফুল ইসলাম বিএ অনার্স, এমএ (ইংরেজি)। তিনি বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ইংরেজির শিক্ষক নিবার্চিত হওয়ায় ৬ মাসের প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ সরকার ১ বছর পূর্বে তাকে লন্ডন পাঠায়। বর্তমানে তিনি যশোর মোমেন গার্লস হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক হিসাবে আছেন। মিসেস ইসলাম এলএলবি প্রাক্টিসে আছেন। ৩য় পুত্র মেজর সিরাজুল ইসলাম স্কোডান লিডার পাইলট হিসাবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পাইলট হিসাবে কর্মরত। তার স্ত্রী মিসেস ইসলাম (সিএ) আমেরিকা ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ পাশ করেছেন। মাস্টার নূরুল ইসলামের একমাত্র মেয়ে ফাতেমাতুজ্জোহরা অনার্স ফার্মেসী এমএ জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় এমবিএ সিনিয়র নিবার্হী অফিসার স্কয়ার ঔষদ কোম্পানী/ব্রাক ইউনিভার্সিটির এমবিএ এর ছাত্রী। মাস্টার নূরুল ইসলামের মত গর্বিত পিতা আখ্যায়িত হয়ে সমাজের সকল পিতা গড়ে উঠুক এই আমাদের কাম্য। ২০১২ সালের ৯,১০ও ১১ই মার্চ খাজুরা এম এন মিত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে “গাইদঘাট কৃষি প্রযুক্তি বাস্তবায়ন কেন্দ্র“ আয়োজিত গ্রামীন জীবনযাত্রা ও কৃষি প্রযুক্তি তথ্য,বীজ মেলার অনুষ্ঠান হয়। এই অনুষ্ঠানে দেশ তথা অত্র অ লের ৩০ জন গুনীজনের সম্মাননা প্রদান করা হয়। ্ওই সময় জীবদ্দশায় গুনীজন সম্মাননার মধ্যে গর্বিত পিতা হিসাবে মাস্টার নূরুল ইসলাম ছিলেন অন্যতম একজন।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2025
Theme Customized By BreakingNews

টেলিগ্রাফ বাংলাদেশের ইউটিউব চ্যানেল

Close Welcome Bar