শরণখোলা প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে বৃহস্পতিবার পাঁচ থেকে ছয় ফুট উচ্চতার পানি উঠে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বন বিভাগের একাধিক স্থাপনা পানির নিচে চলে যায় এবং সংকটে পড়ে বনের বন্যপ্রাণি।
বন বিভাগ জানিয়েছে, হঠাৎ জলোচ্ছ্বাসের ফলে শরণখোলা রেঞ্জের বিভিন্ন টহল ফাঁড়ি, অফিস ও ব্যারাক প্লাবিত হয়েছে। প্রাণিরাও নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে। শেলারচর এলাকা থেকে এক হরিণকে জীবিত উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে দুবলারচর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি মৃত হরিণ, যার গলায় ছিল পূর্বে চিহ্নিত ‘নামের হরিণ’-এর পরিচিতি ট্যাগ।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা রানা দেব বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস দেখা দেয়। এর ফলে হঠাৎ করেই জলমগ্ন হয়ে পড়ে বনাঞ্চল।
কটকা অভয়ারণ্যে অবস্থানরত ফরেস্টার আ. সবুর জানান, ওই এলাকায় জোয়ারের পানি চার থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত উঠে আসে। তবে অনেক হরিণ উঁচু স্থানে চলে যাওয়ায় প্রাণহানি এড়ানো গেছে।
বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, মৃত হরিণটির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এটি পানিতে ডুবে মারা গেছে। ঘটনার পরপরই আরও প্রাণি মারা গেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুন্দরবনের ওপর একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব পড়ছে। কিছুদিন আগেই ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এই ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারও নতুন করে লঘুচাপ ও অমাবস্যার জোয়ারে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন।