দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি। দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের পুষ্পকাটিতে সোহাগ (২৫) নামের এক যুবক পবিত্র কুরআনকে নিয়ে কটুক্তি করে ফেইসবুকে পোষ্ট দেওয়ায় গণপিটুনি দিয়েছে এলাকাবাসি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
জানা গেছে, সোমবার ৬ অক্টোবর জোহরের নামাজের পরে পুষ্পকাটি পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন গ্রামের
মন্জুরুল এর ছেলে সোহাগ পবিত্র কুরআনকে নিয়ে কটুক্তি করে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেয়। সোহাগ তার ফেইসবুকে লিখেছে, আল্লাহ বলে কিছু আছে আমি মনে করি না। আজ আমি কোরআনকে পায়ে লাথি মেরে ফেলে দিয়েছি। কারণ আমার মতো ছেলের কাছে কোরআন ফালতু। আমি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করতে চাই। আমি আরো বলতে চাই, কোরআন মানুষের আলোর পথ দেখা দেয় না। কারণ আমি মনে করি কোরআন একটা ফালতু।

ফেইসবুকে সোহাগের এই পোষ্ট দেখে এলাকার আলেম ওলামাসহ এলাকাবাসীরা সোহাগের বাড়িতে যেয়ে তাকে এলাকার ছেলে হিসাবে অনুরোধ করে বলে তুমি কোরআনকে নিয়ে কটুক্তি করেছো তার জন্য তোমাকে ক্ষমা চাইতে হবে নইলে তোমার বিপদ হবে। এই কথা বলার পর সোহাগ এলাকার মানুষের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করতে থাকে। তার পরেও তাদেরকে মারধর করতে উদ্ধত হয়। এই ঘটনার পর আলেমদের মধ্যে একজন সোহাগের উশৃংখল আচরণ ফেইসবুকে দেওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে পড়ে।
পরে দুপুর ২ টা থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে ধর্মপ্রাণ মানুষ সোহাগের বাড়িতে এসে ভীড় জমাতে থাকে এবং এক পর্যায়ে তাকে গণপিটুনি শুরু করে। গণপিটুনিতে যে কোন মুহুর্তে তার জীবন সংশয় হতে পারে এই আশংকায় কেউ একজন দেবহাটা থানায় বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া হাসান দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে অভিযুক্ত
সোহাগকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। এব্যাপারে দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযুক্ত সোহাগের নামে ধর্ম অবমাননার মামলার প্রস্তুতি চলছে।