নিউজ ডেস্ক
বুধবার (২৬ আগস্ট), ২০২৬ | রাত ৮:৪৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও শিশু-কিশোরদের মধ্যে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের হার আবারও বাড়ছে। অভিভাবকদের জন্য তৈরি নিয়ন্ত্রণ সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান কুস্টোডিওর প্রকাশিত নতুন তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। গত ডিসেম্বরে কঠোর আইন প্রণয়নের মাধ্যমে দেশটিতে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছিল।
কুস্টোডিওর তথ্য অনুযায়ী, ১০ থেকে ১২ এবং ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্যে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ এখনও টিকটক ব্যবহার করছে, যা নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগের হারের চেয়ে মাত্র এক শতাংশ কম।
১০ থেকে ১২ বছর বয়সীদের মধ্যে টিকটক ব্যবহারের হার নিষেধাজ্ঞার আগের মাত্রার চেয়ে মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ পয়েন্ট কম। এছাড়া নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারও শিশুদের মধ্যে বাড়ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কুস্টোডিওর গ্লোবাল অনলাইন সেফটি বিশেষজ্ঞ ইয়াসমিন লন্ডন বলেন, “শিশুরা হয়তো ভিপিএন ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকছে, অথবা বয়সের তথ্য গোপন করছে। তবে বিষয়টি আরও সহজও হতে পারে—নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে কাজ করছে না বলেই শিশুরা আবার এসব অ্যাপ ব্যবহার করছে।”
অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা জানান, শিশুদের অনলাইন হয়রানি ও ক্ষতিকর অ্যালগরিদম থেকে সুরক্ষা দিতেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তবে জুনে প্রকাশিত অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গবেষকদের একটি পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে কিশোর-কিশোরীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে সরে গেছে—এমন প্রমাণ খুবই কম।
উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপের পর যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়। এদিকে, নিউজিল্যান্ড সরকারও সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা নতুন আইন প্রণয়নের কাজ করছে, যেখানে নিয়ম না মানলে মেটার মতো বড় প্রতিষ্ঠানকে বৈশ্বিক আয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।