রুশাইদ আহমেদ | আজ ২৪ জানুয়ারি বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর এক প্রস্তাবের মাধ্যমে এই দিনটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর ২৪ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে শিক্ষা দিবস উদযাপিত হয়ে আসছে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রায় শিক্ষা সবচেয়ে কার্যকর শক্তি হিসেবে বিবেচিত। শিক্ষা শুধু তথ্য বা জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং অজ্ঞতা থেকে মুক্তি ও মানবিক বিকাশের প্রধান পথ। এই গুরুত্ব বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতেই আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দিবসটি উপলক্ষে শনিবার ঢাকার সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো কমিশন।
জাতিসংঘ এই দিবস পালনের মাধ্যমে বৈশ্বিক শান্তি ও টেকসই উন্নয়নে শিক্ষার অপরিহার্য ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষ করে ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) চার নম্বর লক্ষ্য—সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখানে প্রাধান্য পেয়েছে।
যদিও শিক্ষা মানবাধিকারের অংশ হিসেবে স্বীকৃত, বাস্তবে এখনো বিশ্বের বিপুল জনগোষ্ঠী শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। দারিদ্র্য, লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য, যুদ্ধ ও সংঘাত শিক্ষাবঞ্চনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত।
ইউনেস্কো এই দিবসের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আজীবন শিক্ষার ধারণাকে এগিয়ে নিতে চায়। তাদের মতে, শিক্ষা শুধু চাকরি বা জীবিকার জন্য নয়; বরং সহনশীলতা, শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার মাধ্যম। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্যে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক যৌথভাবে শিক্ষার কাঠামো গড়ে তুলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, জলবায়ু সংকট ও প্রযুক্তিগত বৈষম্য শিক্ষাব্যবস্থার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস স্মরণ করিয়ে দেয়—সব শিশুর জন্য শিক্ষা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত একটি ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই পৃথিবী গড়া সম্ভব নয়।
#আরএ/