টেলিগ্রাফ রিপোর্ট | মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে একাধিক কৌশল পর্যালোচনা করছেন। এসব বিকল্পের মধ্যে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে সীমিত ও সুনির্দিষ্ট হামলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
মার্কিন নীতিনির্ধারকদের মতে, এমন অভিযানের মাধ্যমে ইরানে শাসন পরিবর্তনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা যেতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্ররা এই ধারণা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে।
তাদের মতে, কেবল বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানে শাসন পরিবর্তন সম্ভব নয়। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না, যা সম্ভাব্য অভিযানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রয়টার্স ও সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে ইরানে বিক্ষোভ দমনের পরপরই ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক হামলার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করে। আলোচনায় বড় পরিসরের সামরিক অভিযান এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ও উঠে আসে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, এর মধ্যেই ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, যেকোনো হামলার জবাব দিতে ইরানের সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
এ সময় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সীমিত করার দাবি জানালেও ইরান কেবল পারমাণবিক বিষয়েই আলোচনা করতে আগ্রহী, ফলে আলোচনা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, শুধু আকাশপথে হামলা চালিয়ে ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া কঠিন; প্রয়োজনে স্থল অভিযানের কথাও ভাবতে হতে পারে।
এরই মধ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের সেনাবাহিনী এক হাজার ড্রোনের নতুন চালান পেয়েছে বলে দেশটির আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। সামরিক নেতৃত্ব জানিয়েছে, সম্ভাব্য যেকোনো আক্রমণ মোকাবিলায় তারা প্রস্তুতি আরও জোরদার করছে।
#আরএ