বাঘারপাড়া প্রতিনিধি | বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং তিনবারের ইউনিয়ন পরিষদের সফল চেয়ারম্যান আবু তাহের সিদ্দিকীকে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। রবিবার জোহরের নামাজের পর বাঘারপাড়া সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
এর আগে আজ রোববার জোহর নামাজ শেষে বাঘারপাড়া পাইলট স্কুল মাঠে মরহুমে আবু তাহের সিদ্দিকির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় শোকার্ত হাজার হাজার মানুষের উপস্থিথ ছিলেন ।
শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেও একমাত্র ছেলের বিদেশ থেকে ফেরার অপেক্ষায় দুই দিন পর এই জানাজা অনুষ্ঠিত হলো। শেষ বিদায় জানাতে স্থানীয় এই প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের জানাজায় রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে কয়েক হাজার মানুষের ঢল নামে।
নামাজে জানাজার আগে মরহুমের কর্মময় জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী নাজিম উদ্দীন আল আজাদ এবং জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু। উপস্থিত বক্তারা বলেন, আবু তাহের সিদ্দিকী ছিলেন বাঘারপাড়ার রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
জানাজায় অংশ নেন যশোর-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজি, জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রসুল এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট বায়েজিদ হোসেন। রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পুলিশ কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে আক্রান্ত আবু তাহের সিদ্দিকী শুক্রবার খুলনার একটি হাসপাতালে মারা যান। তাঁর জানাজা পড়ান মেজ ভাই ও বাঘারপাড়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা হায়দার আলী।
উপজেলা বিএনপির সাবেক এই সাধারণ সম্পাদকের মৃত্যুতে পুরো বাঘারপাড়ায় গত দুই দিন ধরেই শোকের ছায়া বিরাজ করছিল। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৭ বছর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ৫ বছর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আজ তাঁর দাফনের মধ্য দিয়ে বাঘারপাড়ার রাজনীতির একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।