লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী এআর হাফিজ উল্যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তাকে ‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাত অবধারিত’ বলে মন্তব্য করতে শোনা যাচ্ছে। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় ভোটার এবং নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার থেকে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাফিজ উল্যাহ একটি নির্বাচনী সভায় ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলছেন, ইসলামের পক্ষে এবং কোরআনের পক্ষে দাঁড়িয়ে পাল্লায় ভোট দিলে ভোটাররা সওয়াব পাবেন এবং তাদের জন্য জান্নাত নিশ্চিত হবে। একই সাথে কোরআনের ‘বিরুদ্ধে’ ভোট দিলে গুনাহগার হতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেককেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। সাধারণ মানুষ এবং নেটিজেনরা ধর্মের এমন রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে লিখেছেন যে, এভাবে ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
তবে নির্বাচনী প্রচারণার সময় দেওয়া এই বক্তব্যে কেবল ধর্মীয় বিষয়ই ছিল না; হাফিজ উল্যাহ অন্যান্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগও তোলেন। তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করেন যে, নির্বাচিত হলে তাঁর মাধ্যমে কোনো দুর্নীতি হবে না।
বিতর্ক উসকে দেওয়ার পর এআর হাফিজ উল্যাহ দাবি করেছেন যে, তার বক্তব্যটি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ভিডিওটি একটি অভ্যন্তরীণ প্রোগ্রামের এবং এটি ‘কেটেকুটে জোড়া দিয়ে’ বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “আমি ঠিক এভাবে বক্তব্য দিইনি। ভিডিওটি আংশিক এবং এর মাধ্যমে আমাকে হেয় করার চেষ্টা চলছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাব।”
নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এমন একটি স্পর্শকাতর ধর্মীয় বক্তব্য ভোটের মাঠে কী ধরণের প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।