বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি | বাঘারপাড়ায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর মতবিনিময় সভা করেছেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজী। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলা সদরের চৌরাস্তায় বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব ও তার সমর্থকদের অসহযোগিতার কারনে ধানের শীষ প্রতিকের পরাজয় হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
এর প্রতিবাদে রাত সাড়ে ৯টায় ব্র্যাকমোড়ে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব দলীয় কয়েক’শ নেতা-কর্মীদের সামনে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং মতিয়ার ফারাজীর মানহানীকর বক্তব্যের তীব্র
প্রতিবাদ করে যশোর জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাঘারপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই মনার সভাপতিত্বে বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় মতিয়ার ফারাজী বলেন, টিএস আইয়ুব আমাকে বিভিন্ন অজুহাতে ভোটের মাঠে পৌঁছাতে সময় ক্ষেপন করিয়েছেন। তাঁর চাহিদামতো টাকা দিলেও তিনি দলের পক্ষে কাজ করেননি।
সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান এসময় বলেন, টিএস আইয়ুব মতিয়ার ফারাজী ও জামায়াতের প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে দাড়িপাল্লা প্রতিকের পক্ষে কাজ করেছেন এবং আওয়ামীপন্থী ভোটারদের দাড়িপাল্লা প্রতিকে ভোট দিতে উৎসাহিত করেছেন। এমনকি তার সমর্থকরা ভোটের মাঠে পর্যন্তও ছিলেন না। বাঘারপাড়ায় জামায়াতের মাত্র ১৫ শতাংশ ভোট থাকলেও কেন বিএনপিকে হারতে হল? জেলা বিএনপির নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়ে টিএস আইয়ূব একের পর এক দলের বিরুদ্ধে কাজ করে চলেছেন বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।
এসময় বক্তারা টিএস আইয়ুবসহ তার সমর্থকদের বিএনপির সকল সদস্যপদ থেকে বহিষ্কারের দাবি তোলেন। এতে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মশিয়ুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিল্লাল বিশ্বাস, ঢাকা মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ও সহকারী এ্যাটর্নি জেনারেল নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ, দরাজহাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাফিুজুর রহমান, জহুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের নেতা এ্যাডভোকেট শিহাবুর রহমান, ধলগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর মুর্শীদসহ অভয়নগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
একই দিন ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় মতিয়ার ফারাজী ও তাঁর সমর্থকদের তোলা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মতিয়ার ফারাজী বাদে অন্য কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। প্রার্থীর কাছ থেকে যে টাকা পাওয়া গেছে তা প্রতিটি ওয়ার্ডে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি নির্বাচনের দুইদিন আগে যে ১৩ লাখ টাকা পেয়েছি তা প্রতিটি কেন্দ্র ১৫ হাজার করে বন্টন করা হয়েছে।
দাড়িপাল্লা প্রতিকের পক্ষে ভোট চাওয়া প্রসঙ্গে টিএস আইয়ূব বলেন, যদি কেউ প্রমান দিতে পারেন তাহলে
রাজনীতি থেকেই বিদায় নেব। তিনি এসময় মানহানিকর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করে যশোর জেলা বিএনপির হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
টিএস আইয়ূব বলেন, মতিয়ার ফারাজী তাঁর নিজের কেন্দ্রেসহ সমগ্র অভয়নগর উপজেলাতেও নিজের ব্যর্থতার কারনে হেরেছেন। সেখানে গণজোয়ার তৈরী করতে পারেননি। তিনি এসময় সমস্ত ভোদাভেদ ভুলে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। এ সভায় উপজেলা ও পৌর বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের বিভন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।