সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূখণ্ডে ইরানের সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিবাদে তেহরানে অবস্থিত নিজেদের দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি। একইসঙ্গে ইরান থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূত ও সমস্ত কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের অবিলম্বে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সোমবার আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরানের ‘নির্লজ্জ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ যা আবাসিক এলাকা, বিমানবন্দর, বন্দর এবং বিভিন্ন সেবামূলক বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছে, তার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ‘ভয়াবহ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন উসকানি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আক্রমণ কেবল বেসামরিক নাগরিকদের জীবনকেই বিপন্ন করেনি, বরং এটি দেশটির জাতীয় সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমিরাত সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো আঘাতের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান হবে অবিচল। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ইরানের এই ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড পুরো অঞ্চলকে অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা কেবল আঞ্চলিক শান্তি নয়, বরং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এই কূটনৈতিক বিচ্ছেদ দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় ধাক্কা। দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কাটিয়ে ২০২২ সালেই সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করেছিল এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে তেহরানে পুনরায় রাষ্ট্রদূত পাঠিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সংঘাত সেই বন্ধুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টাকে পুরোপুরি নস্যাৎ করে দিল।