অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন ও প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, জীবনে তিনি কখনো এক টাকার দুর্নীতিও করেননি। একইসঙ্গে বিদেশে সম্পদ গড়া বা স্বজনপ্রীতির অভিযোগগুলোকে তিনি ‘ভিত্তিহীন ও জঘন্য মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করেছেন।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
শনিবার (৭ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একাধিক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি তার ব্যক্তিগত সম্পদ এবং সরকারি কর্মকাণ্ড নিয়ে ওঠা নানা আলোচনার প্রেক্ষিতে তিনি এই অবস্থান পরিষ্কার করেন।
ড. আসিফ নজরুল জানান, বছরখানেক আগে থেকে তার নামে আমেরিকায় বাড়ি কেনার যে খবর প্রচার হচ্ছে, তার কোনো দালিলিক প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “আমেরিকা কেন, বাংলাদেশের বাইরে পৃথিবীর কোনো দেশেই আমার কোনো বাড়ি বা সম্পত্তি নেই।” তিনি আরও দাবি করেন, উপদেষ্টা থাকাকালে প্রায় পাঁচ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিলেও নিজের কোনো আত্মীয়কে তিনি পদায়ন করেননি।
সরকারে থাকাকালীন নিজের কাজের ফিরিস্তি তুলে ধরে সাবেক এই উপদেষ্টা জানান, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে তিনি ওউভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম (OEP) চালুর মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাইজড করেছেন। এর ফলে বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন বন্ধ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া জাপানে কর্মী পাঠানো বৃদ্ধি এবং সৌদি আরবে দক্ষ শ্রমিকদের জন্য ‘তাকামল’ ভেরিফিকেশন প্রোগ্রাম চালুর বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সমালোচনা ও লেখক জাকির তালুকদারের নেতিবাচক মন্তব্যেরও জবাব দিয়েছেন তিনি। ড. আসিফ নজরুল বলেন, তিনি যোগ্য ব্যক্তিদেরই বিভিন্ন পদে পদায়ন করেছিলেন। তবে এসব বিতর্কের ঊর্ধ্বে গিয়ে তিনি এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন এবং মহানবী (সা.)-এর জীবনী নিয়ে একটি বই লেখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
নিজের সততার ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে তিনি বলেন, “চুরি করে বা অন্যের হক মেরে বেঁচে থাকার জন্য আমার জন্ম হয়নি।” বিগত ২০ বছরে তার বিরুদ্ধে হওয়া নানা অপবাদের মতো বর্তমানের এই পরিস্থিতিও তিনি ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসের সাথে মোকাবিলা করছেন বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন।