ডেস্ক নিউজ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চীন-এ এক নারী তার ছয় মাস বয়সী পোষা কুকুরছানাকে একটি ‘ডগ কিন্ডারগার্টেনে’ ভর্তি করানোর ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কুকুরটির প্রশিক্ষণের জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই লাখ টাকার বেশি।
South China Morning Post-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্যাময়েড প্রজাতির কুকুরটিকে আচার-আচরণ শেখানো এবং বিভিন্ন ইশারা বুঝতে সক্ষম করার উদ্দেশ্যে এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
এই কিন্ডারগার্টেনে কুকুরটির আচরণ মূল্যায়নের জন্য আলাদা পরীক্ষা নেওয়া হয়। অতিরিক্ত ঘেউ ঘেউ করা বা আক্রমণাত্মক আচরণ কমাতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং অন্যান্য কুকুরের সঙ্গে মেলামেশার জন্য সামাজিক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।
সেবার অংশ হিসেবে প্রতিদিন কুকুরটিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া ও ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি মালিকরা অনলাইনে সরাসরি তাদের পোষ্যের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুবিধাও দেওয়া হয়, তবে খাবারের খরচ আলাদাভাবে বহন করতে হয়।
কুকুরটির মালিক ‘তাওতাও’ নামে পরিচিত ওই নারী জানিয়েছেন, ব্যস্ত কর্মজীবনের কারণে তিনি পোষা প্রাণীর জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন না। তাই উন্নত যত্ন ও প্রশিক্ষণের জন্য এই সেবা গ্রহণ করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনে পোষা প্রাণীকে কেন্দ্র করে ব্যয়বহুল সেবার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। অনেকেই তাদের পোষ্যকে পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করছেন এবং তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে আগ্রহী।
২০২৬ সালের ‘চায়না পেট ইন্ডাস্ট্রি হোয়াইট পেপার’ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির শহরাঞ্চলে পোষা প্রাণী খাতে ব্যয় ছিল ৩১২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইউয়ান, যা ২০২৮ সালের মধ্যে ৪০৫ বিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এদিকে এই ঘটনাটি চীনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন, এমন খরচ করতে হলে আয় কত হওয়া প্রয়োজন। আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, অনেকেই নিজের সন্তানের শিক্ষার পেছনেও এত অর্থ ব্যয় করেন না।