মোঃ মাসুম বিল্লাহ
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ইতিহাসে কিছু নির্মম সত্য যা সহজে হজম করা যায় না। তেমনি একটা নির্মম সত্য হলো বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে পরিচিত ছিলেন তারাই হত্যা করেছে রাষ্ট্রনায়ক শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে।
কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান,লে. কর্নেল রশিদ,মেজর বজলুল হুদা,মেজর শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল আবদুল আজিজ পাশা,মেজর নূর চৌধুরী,মেজর মোহিউদ্দিন আহমেদ,ক্যাপ্টেন কিসমত হাশেম এরা সবাই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। কিন্তু ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের সঙ্গে এই সকর মুক্তিযোদ্ধা সরাসরি জড়িত ছিলো।
আবার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর ৭৫ পরবর্তী রাজনীতিতে নতুন দিশা নিয়ে হাজির হন জিয়াউর রহমান। কিন্তু জিয়াউর রহমান হত্যাকান্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলো মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর। আর জিয়া হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত এই জেনারেলও একজন সুপরিচিত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাব পেয়েছিলেন। আবুল মনজুর — ১৯৭১ সালে সেক্টর কমান্ডারদের একজন ছিলেন ও “জেড ফোর্স”-এর গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার হিসেবে পরিচিত।
মুক্তিযোদ্ধা হলে তিনি ফেরেশতা হয়ে যান না। বরং ইতিহাসের এই অধ্যায় আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মুক্তিযোদ্ধা হলেই কেউ আজীবন সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবেন, এমন নিশ্চয়তা ইতিহাস দেয় না। একই ব্যক্তি যেমন একদিকে যুদ্ধের বীর হতে পারেন, তেমনি আবার অন্যদিকে সময়ের পরিক্রমায় রাষ্ট্রের ইতিহাসে গভীর বিতর্ক ও ট্র্যাজেডির অংশও হয়ে উঠতে পারেন। ব্যক্তির কোন কাজের জন্য যেমন তিনি ভক্তি ও শ্রদ্ধায় আরধ্য হয় ওঠেন, তেমনি গর্হিত কাজের জন্য ঘৃর্ণিত হয়ে ওঠে।
কাউকে ভগবানের আসনে বসিয়ে ইতিহাসের সত্য জানার চেষ্টা না করে বরং সত্য ইতিহাস পড়ে ভগবান নির্বাচন করা উচিত। ইতিহাস তাই শুধু আবেগ দিয়ে নয়, নির্মোহভাবে পড়া জরুরি।