মোঃ মাসুম বিল্লাহ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
গণতন্ত্রে সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু এই জনগণ কারা জানেন? এরা হলো সরকারের ধারক বাহক ও
ভোটের দিনে চরম ক্ষমতার মালিক। আবার এই মালিকরা কিন্তু পাঁচ বছরে একদিন সেই সর্বময় ক্ষমতাধর হয়ে
ওঠেন। নির্বাচনের দিনের বাইরেও এই ক্ষমতার চর্চা তারা করেন; আর তা হলো মহল্লার চায়ের দোকানে,
প্রতিবেশীর সাথে বাহাসে আর নেতার জনসভায়। বিরুদ্ধমত দমনে তারা এক একজন যে প্রভুত্ব ক্ষমতার মালিক
হয়ে ওঠেন তা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অপরিমেয়।
যদি পৃথিবীর অন্যতম পরাশ্র্রীকাতর দেশের পরিসংখ্যান করা হয় তবে বাংলাদেশ হবে সবার অগ্রে। আর এ
দেশের জনগণের মত বাচাল জাতি পৃথিবীতে কম আছে। কিন্তু এ বাচালতা এদেশের প্রভুত্ব ক্ষমতাধর জনগণের
মধ্যে যেমন দেখা যায় তেমনভাবে রাজনীতিবিদের পরিবারে চোখে পড়ে না। আপনি কি কখনো দেখেছেন কোন
রাজনীতিবিদের সন্তান বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামিয়ে অন্যকে কটাক্ষ করে? আপনি কি দেখেছেন তারা আম পাবলিকের মতো বাহাসে লিপ্ত হয়? আবার কি শুনেছেন কোন ব্যবসায়ী বা তার পরিবারের কারো মুখে রাজনৈতিক আলোচনা। না এগুলো আপনি শুনবেন না। কারণ কি জানেন তারা নিজেরা জানে রাজনীতির অন্তঃসারতার কথা।
রাজনীতিবিদ কখনো নিজের সন্তানকে অন্যের কাছে পরিহাসে পরিণত করেন না। তেমনি ব্যবসায়ীরা দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ ফালতু পরিবর্তনশীল বিষয় নিয়ে কারো সাথে শত্রুতাও করেন না। কারণ তারা বুদ্ধিমান। তারা জানেন এসবের ফাঁকিবাজি। কিন্তু আমজনতা, যাদের সংসরার চলে না, যারা নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ান। তারা দেখবেন এক একজন রাজনৈতিক বোদ্ধা, যোদ্ধা, পন্ডিত, বিশেষজ্ঞ হয়ে চায়ের কাপ আর পাড়ার মঞ্চে গলাবাজি করেন। কারাণ কি জানেন? তাদের ব্যক্তিগত আইডেন্টিটি নাই। তারা আইডেন্টিটি সংকটে ইনফিরিওরিটি ডিসওর্ডার এ ভোগেন। কারণ তারা সমাজে ভাসমান জনগোষ্ঠী। তাই অস্তিত্বের স্থানীয় আসন গড়তে হীনম্মন্যতায় ভোগেন।
আমরা কেউ ফেরেশতা দেখিনি। কিন্তু শুনেছি যে, ফেরেশতারা সকল ভুল ত্রুটির বাইরে। আমাদের দেশে এমন দুই শ্রেণির ফেরেশতাতুল্য মানুষ আছেন আর তারা হলো এক ব্যবসায়ী যাদের কোন ভুল নেই। আর এক শ্রেণি হলো রাজনীতিবিদ। যাদের ক্ষমতার পালাবদলের সাথে ফেরেশতার গুণাবলি মুক্ত হয়ে ডেভিলে পরিণত হয়। যখন তারা ক্ষমতায় তখন কোন পাপ পঙ্কিলতা তাদের স্পর্শতো দুরে থাক কাছে ঘেষতেও পারে না। কিন্তু ক্ষমতা শেষ হতেনাহতেই নরকসম অভিযোগের আগুনে দগ্ধ হন।
কিন্তু সমস্যা বাধে ফেরেশতাকুলের সাথে চলমান গণতন্ত্রের ক্ষমতার মালিক এই আমজনতার। তারা যাদের ফেরশতা ভেবে অভ্যস্ত তারা যে ক্ষমতা ফুরালে ডেভিলে রুপ নেয় তা মানতে নারাজ। ফলে নব্য ফেরেশতারদল এই ডেভিলদের অনুসারীদের জাহান্নামে নিক্ষেপকে শুধু জায়েজ মনে করেন না বরং এটা ছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠার কোন উপায় নেই মনে করেন।
ফলে নব্য ফেরেশতা আর সদ্য পরিবর্তিত ডেভিলদের অনুসারিদের মধ্যে সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে ওঠে। কিন্তু অন্যদিকে দেখা যায়, ফেরেশতা আর ডেভিল দুজনে একসাথে বসে চা খান। কারণ তারা জানেন যে পাঁচ বছর পরে তাদের অবস্থার পরিবর্তন হবে। তাই সহাবস্থান বজায় রাখেন। কেননা এরা কখনো সুখৈশ্বর্য ত্যাগ করতে পারেন না। তাই ডেভিল ও ফেরেশতা এককাপে চা পান সংগত। কিন্তু তারা আবার কৌশলে এই প্রভুত্ব ক্ষমতাধর জনগণকে একে অন্যের বিপক্ষে লেলিয়ে দিয়ে নিজের দলের স্বকীয়তা বজায় রাখেন।
কারণ তারা চান দিন শেষে আমাদের সন্তানরা যেন তাদের পা চাটে। এই পদ্ধতির যতসামান্য ব্যতিক্রমও চোখে পড়ে। কেউ আবার স্রষ্টার কৃপায় অতিমানব হয়ে ওঠে।