ডেস্ক নিউজ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাত থেকে টাকা তুলতে না পেরে আমানতকারীদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে নিরাপদ ব্যাংক বাছাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের মতো বাণিজ্যিক এলাকায় ব্যাংক কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভের ঘটনার পর সাধারণ মানুষ এখন শুধু মুনাফা নয়, বরং আমানতের নিরাপত্তার দিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন।
অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং বর্তমান তারল্য পরিস্থিতি বিবেচনায় বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে পারফরম্যান্সে শীর্ষে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। এছাড়া সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ডাচ-বাংলা এবং পূবালী ব্যাংক আর্থিক স্থিতিশীলতার দিক থেকে তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। টেকসই ব্যাংকিং ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ভালো করায় তালিকায় যুক্ত হয়েছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট, যমুনা এবং শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের নামও।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপত্তার বিচারে সোনালী, অগ্রণী ও জনতা ব্যাংকের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো সবসময়ই এগিয়ে থাকে, কারণ এগুলোর পেছনে সরকারের সরাসরি সমর্থন বা গ্যারান্টি কাজ করে। উদাহরণ হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের নতুন ডিপোজিট স্কিমগুলোর কথা বলা হচ্ছে, যেখানে মুনাফা কিছুটা কম হলেও মূলধনের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছেন ব্যাংকাররা। তাদের পরামর্শ হলো—বেশি সুদের লোভে না পড়ে ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ও সুশাসন পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। একইসাথে সব টাকা এক ব্যাংকে না রেখে একাধিক শক্তিশালী ব্যাংকে ভাগ করে রাখার কৌশল আমানতকারীদের ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দিতে পারে।