বাঘারপাড়া প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যশোরের বাঘারপাড়ায় রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান না থাকায় উন্নয়ন কাজ ব্যহত হচ্ছে। এমনকি প্যানেল চেয়ারম্যান অনানুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করলেও তার অর্থিক ক্ষমতা না থাকায় পরিষদের সার্বিক কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের জুন মাস শেষ হওয়ার আগে সিন্ধান্ত নিতে না পারলে ২৯ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। মন্ত্রণালয়ে ফেরত যাবে বরাদ্দের সমস্ত টাকা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুঞ্জুর রশীদ স্বপন ২৫ সালের ৯ মে তারিখে পুলিশ আটক করে। পরে বাঘারপাড়া থানায় একটি নাশকতা মামলায় আটক দেখিয়ে তাঁকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। একই বছরের ২৩ শে জুন জেলা প্রশাসক উজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তাকে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ প্রদান করেন। পরে মঞ্জুর রশীদ স্বপন জামিনে মুক্ত হয়ে প্রশাসক নিয়োগের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দাখিল করেন।
এরপর ৩০ নভেম্বর হাইকোর্ট বিভাগ প্রশাসক নিয়োগের আদেশটি দুই মাসের জন্য স্থগিত আদেশ দিয়েছিলেন। সে প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক ১৫ ডিসেম্বর প্রশাসক নিয়োগের আদেশটি স্থগিত কার্যকর করেন। ১৭ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের নিকট সুস্পষ্ট নির্দেশনা চেয়ে পত্র প্রেরণ করেন জেলা প্রশাসন। চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগ স্থগিতাদেশ আরো ছয় মাসের জন্য বৃদ্ধি করেন।
পরবর্তীতে পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ডিভিশনে আপিল করেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি আপিল ডিভিশন কর্তৃক হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন স্থগিত আদেশকে পরিবর্তন করে স্থিতিবস্থা হিসাবে সংশোধন আদেশ প্রদান করেন। ২৫ সালের ৩০ নভেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের স্থগিতাদেশের সুস্পষ্ট নির্দেশনা না পাওয়ায় পুনরায় জেলা প্রশাসক চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ বরাবর সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুর রশীদ স্বপনকে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব প্রদান করা যাবে কিনা মতামত চেয়ে পত্র প্রেরণ করেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখা এর ২৬ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগের স্থাগিতাদেশের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলা হয়, যা জেলা প্রশাসকের কাযার্লয়ের স্থানীয় সরকার শাখা হতে চলতি ২ মার্চ ৮৭ নং স্মারকে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উপজেলা নিবার্হী অফিসারকে বলা হয়। হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ প্রতিপালন না হওয়া আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের বিষয়ে অবহিত করে চলতি ২৪ মার্চ মঞ্জুর রশীদ স্বপন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদন করেন। পত্র প্রাপ্তির পূর্বেই হাইকোর্ট বিভাগের স্থাগিতাদেশ সংশোধন হয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ডিভিশন কর্তৃক চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে স্থিতিবস্থা সংশোধিত আদেশ হয়েছে, সেহেতু মঞ্জুর রশীদ স্বপনকে দায়িত্ব প্রদানের বিষয়ে বর্ণিত পত্রের নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পুনরায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভুপালী সরকার জানান, চেয়ারম্যান মঞ্জুর রশীদ স্বপনকে দায়িত্ব প্রদান বা ইউনিয়নের কার্যক্রম সচল রাখার স্বার্থে প্যানেল চেয়ারম্যানকে আর্থিক দায়িত্ব প্রদানের বিষয়ে আইনি মতামতসহ স্থানীয় সরকার বিভাগে নির্দেশনা চেয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলে বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।