মোঃ মাসুম বিল্লাহ
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
আমাদের দেশের রাজনীতি মানে অতীত কচলানো। এদেশে যতো আলোচনা, সমালোচনা, টকশো সব দেখবেন অতীত নির্ভর। এজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে কোন পরিকল্পনা নাই, মাথা ব্যাথাও নাই। এখন মিডিয়াগুলোতে ইউনুসকে নিয়ে কচলানি চলছে। ইউনুস বেচারা মাইনকার চিপায় পড়ে যে সম্মানটুকু ছিল সব হারিয়ে বিশ্বাসঘাতকে পরিণত হয়েছে। ৫৫ বাছরের একমাত্র কালপিট ইউনুস। আর সকলে দুধে ধুয়া তুলসি পাতা। ৫৫ বছর যতো সরকার ছিল তারা কেউ কোন দুর্নীতি করেনি। বরং ৫৫ বছর ধরে দুর্নীতির নেপথ্যে কাজ করেছে ইউনুস। এস আলমের দোষ দেন আপনারা সেতো সতীসাধ্বী সাবিত্রী; শুধু ইউনুস খারাপ। আর বর্তমানে নতুন বন্দোবস্ত চাওয়া এনসিপি খারাপ। এরা দেশটাকে রসাতলে দিলো। ৫৫ বছর ধরে আমাদের দেশ সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা ছিল। যে সরকার এসেছে তারা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দিয়ে সকল গরিবকে বড় লোক বানিয়ে ছিল। এই তরুণরা কি আর জানে ভিক্ষার ঝুলির ইতিহাস। এই তরুণদের দুর্নীতির জন্য দেশে এখন হাহাকার, দুর্ভিক্ষ, মানুষ না খেতে পেরে মারা যাচ্ছে লাখে লাখ। এদের দখলদারির কারণে কেউ এখন হাট, মাঠ, ঘাট, বাজার, দোকান পাট, দখল করতে পারছে না। এই তরুণেরা দখল বাজ, বাকিরা সব চেতনাবাজ। মিডিয়ার এই কচলানিতে মানুষ বুঝতে শিখেছে, মানুষের চোখ খুলে গেছে। তাই মিডিয়ার উচিত এদের অতীত নিয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্ট করা। তবেই দেশটা রক্ষা পাবে।
পৃথিবীর উন্নত দেশ যখন দ্বাবিংশ শতাব্দীর নিয়ে ভাবে, ২০৫০ সালে কি হবে, সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে কি করতে হবে সেই গবেষণায় নিমজ্জিত, সেখানে আমরা পড়ে আছি অতীত নিয়ে। কারণ অতীত ছাড়া আমাদের রাজনীতি টেকে না, আমাদের বক্তব্য জমে না। কেননা আমাদের কোন ভবিষ্যৎ ভাবনা নেই, আমরা এতো বুদ্ধিমান যে আমেরিকা ইউরোপের মূর্খ জাতির মতো ভবিষ্যৎ নিয় ভাবি না। আমাদের গর্বের অতীত যারা ভুলাতে চাই তারা দেশদ্রোহী। ভবিষ্যৎ কি দেখা যায়, ওটা নিয়ে ভাবা বোকামী। আমরা যতোক্ষণ আছি অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে বাঁচি। মাঝে মাঝে বর্তমানে নিয়ে আলোচনা করি যেন অতীতকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি তাই। বর্তমান প্রজন্মকে যদি অতীত শিখাতে না পারি তবে আর আমাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পেশা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই মিডিয়া খুলতে হবে অতীত নির্ভর, যেখানে সকালে, বিকালে, সন্ধ্যা, রাতে অতীতের গুনগান শোনাতে হবে। আর বলতে হবে গেল গেল রসাতলে গেল। ছেলেরা যদি অতীত থেকে শিক্ষা না নেয় তবে আম-ছালা সব গেল।
এদেশে টকশোতে অতিথি হিসেবে যারা আসেন, তাদের না আছে বুদ্ধিমত্তা, না আছে তাদের ব্যক্তিত্ব। আক্রমনাত্বক মানসিকতা নিয়ে কোন বিশেষ দলের সাফাই গাওয়া তাদের প্রধান কাজ। তারা কেউ দেশপ্রেমিক না বরং দল প্রেমিক। তাই দলের নেতা থেকে শুরু করে কর্মী পর্যন্ত সকলে হন অতিথি। তাদের একটাই উদ্দেশ্য দলের সকল সমালোচনার জবাব দিয়ে জনগনকে বোঝানো যে, একমাত্র তার দলই হক পন্থী, দেশপ্রেমিক বাদ বাকি সব ধান্দাবাজ, জোচ্চর, চাটুকার, লুটেরা, দেশদ্রোহী। এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাই রাজনীতির কারখানা। সেখানে গবেষণার বদলে রাজনৈতিক সচেতনতা শেখানোই প্রধান কাজ। এদেশের শিক্ষকরা বুদ্ধিজীবীর বদলে রাজনীতি শেখানো পেশাজীবী বক্তা হতে বেশি সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এজন্য টকশোর মঞ্চে কোন পেশাজীবী শিক্ষকের ডাক পড়ে না, যতোক্ষণ না তার গায়ে পাকাপোক্ত ভাবে দলীয় ছিল না পড়ে। যে কোন দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির পিছনে সে দেশের শিক্ষক ও শিক্ষা ব্যবস্থার অবদান অনস্বীকার্য। সেখানে আমাদের দেশের মিডিয়ায় এমন শিক্ষকের দেখা মেলা ভার। এদেশের প্রধান টকশো বিদ হলো রাশেদ, আমতারেকের মতো দ্বিচারি লোক। আর এদেশের রাজনীতিবিদ মানে মুখে সাম্যের গান গাই কিন্তু ক্ষমতা পেলে সাম্য ভুলে নুরুল হক নূর আর জোনায়েদ সাকি বনে যায়। আর তখনি তাদের জয়জয়কার। এদেশে টকশোতে তাই বুদ্ধির চর্চার বদলে গলার চর্চা বেশি হয়। মাঝে মাঝে হাতের চর্চাও দেখা যায়। আর যারা টকশো করেন তারা এলিট প্রজাতির। কিন্তু আলোচনা করেন যাদের নিয়ে তারা সব চামচিকা, তেলাপোকা। আর টকশোর হোস্ট প্রশ্নের বদলে নিজের মত ও আদর্শ প্রতিষ্ঠিত করতে উঠে পড়ে লাগেন। আর এতো কিছু করে ফিরে যান সকলে সেই অতীতে। যে অতীত চেতনা ছাড়া আমাদের রাজনীতির খেলা জমে না।